


স্বার্ণিক দাস, কলকাতা:
সেতু বা বড়ো কোনও জাতীয় সড়ক ধরে যেতে হলে গুনতে হয় টোল ট্যাক্স। এখন রাতের কলকাতায় মা ফ্লাইওভার পেরতে গেলেও নাকি দিতে হচ্ছে ‘টোল’। পণ্যবাহী চালকদের মুখে মুখে ঘোরে এই শব্দ— ‘পুলিশ টোল’। একবার মা ফ্লাইওভার পার করতে খরচ ‘২০ টাকা’। ফ্লাইওভারের প্রতিটি এন্ট্রি পয়েন্টে গার্ড রেল লাগিয়ে সেই টাকা নিচ্ছেন নিচুতলার উর্দিধারীরা। সম্প্রতি সেই ভিডিও হাতে এসেছে ‘বর্তমান’-এর। লালবাজারের দাবি, এই কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শুরু করা হচ্ছে।
রাত ১০টা থেকেই মা ফ্লাইওভারের প্রতিটি এন্ট্রি পয়েন্টে ‘জিক-জ্যাক’ ছকে বসে যায় গার্ড রেল। যাতে পুলিশের নজর এড়িয়ে কোনও পণ্যবাহী গাড়ি মা ও এজেসি বোস ফ্লাইওভারে উঠতে না পারে। কিন্তু, রাতের শহরে দেখা মিলছে অন্য ছবির। গার্ড রেলের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন উর্দিধারী। সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁদের সামনে দিয়েই একের পর হাল্কা ও মাঝারি পণ্যবাহী গাড়ি উঠে পড়ছে ফ্লাইওভারে। মূলত এই দৃশ্যের আধিক্য ডিএল খান রোড ক্রসিংয়ের সামনে। এজেসি বোস ফ্লাইওভারে বিনা বাধায় উঠছে পণ্যবাহী গাড়ি। কিন্তু, কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশিকা বলছে, এই দুই উড়ালপুলে সমস্ত ধরনের পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্দেশিকার তলায় সই রয়েছে স্বয়ং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মার। কিন্তু, সেই নির্দেশিকাকে অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন কী করে নিচুতলার কর্মীরা? পণ্যবাহী চালকদের অভিযোগ, ‘পুলিশ টোল’ দিলেই রাতে মা ফ্লাইওভারে চলাচলের ‘পাশ’ মেলে। ২০ টাকাতেই বিক্রি হয় উর্দিধারীরা। বুড়ো আঙুল দেখানো যায় সিপির নির্দেশকে। রাতে ওভারলোড গাড়িও দেদার চলে শহরের এই দুই উড়ালপুলে।
‘বর্তমান’-এর হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ফ্লাইওভারে ওঠার মুখে পণ্যবাহী একটি গাড়ির চালক চলন্ত অবস্থাতেই হাত বের করলেন জানালার বাইরে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এক কনস্টেবল। তাঁর হাতে একটি নোট গুঁজে দিলেন চালক। খানিক বাদে সেই পণ্যবাহী গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘সকালে ফ্লাইওভারে উঠতে দেয় না পুলিশ। কিন্তু, বেশি রাতে যাওয়া যায়। তার জন্য টোল খরচ দিতে হয় ২০ টাকা।’ এ প্রসঙ্গে, কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (২) প্রণব কুমার তথা গোয়েন্দাপ্রধান (অতিরিক্ত চার্জ) বলেন, ‘লালবাজার এই ঘটনা নিয়ে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান করা হবে।’ অন্যদিকে, স্বয়ং সিপির নির্দেশ ভেঙে পুলিশের উপস্থিতিতে মা ফ্লাইওভারে পণ্যবাহী যান চলাচল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) শ্রীকান্ত জগন্নাথ রাওকে। তিনি কোনও উত্তর দেননি। রাতের শহরে এই বিধি লঙ্ঘনের দায় কার? এভাবে বিধি ভেঙে মা ফ্লাইওভারে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করলে ভার বহন ক্ষমতার ক্ষতি হবে না তো? এই প্রশ্নই এখন শিয়রে।