নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বারে বারে চাইলেও ধারের টাকা ফেরত না পাওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তার জেরেই খুন হতে হয়েছে শিবপুরের গৃহবধূকে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এমনটাই মনে করছে পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যায় শিবপুরের ওলাবিবিতলায় গৃহবধূ ভারতী হাজরা (৪০) খুনের ঘটনায় ধৃত রাজদীপ মুখোপাধ্যায়কে সোমবার হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। তবে খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, ভারতী হাজরার পরিবারের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় ছিল রাজদীপের। প্রায় ছ’মাস আগে রাজদীপের মায়ের কাছ থেকে ভারতীদেবীর পরিবার প্রায় ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও পুরো টাকা ফেরত দেননি তাঁরা। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে প্রায়ই বচসা হত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকা আদায়ের জন্য রাজদীপ মাঝেমধ্যেই কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে ভারতীদেবীর ফ্ল্যাটের নীচে গিয়ে অশান্তি করত বলে অভিযোগ। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসাও হয়েছে কয়েকবার। সেকারণে এলাকায় একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, রাজদীপের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং তাঁর চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই ধার দেওয়া টাকা দ্রুত ফেরতের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন রাজদীপ। তদন্তকারীদের অনুমান, টাকা ফেরত না পাওয়ার ক্ষোভ, মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের চাপ এবং দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরেই এই চরম পদক্ষেপ।
রবিবার সন্ধ্যায় শিবপুরের ওলাবিবিতলার ফাস্ট বাই লেনে ভারতী হাজরার আবাসনের নীচে ফের টাকা নিয়ে দু’জনের মধ্যে তুমুল বচসা হয়। অভিযোগ, উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার মাঝেই রাজদীপ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভারতীদেবীর গলায় কোপ মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং পরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।