বধূ নির্যাতনের তদন্ত করেনি থানা, পুলিশ  অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আদালতের
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বধু নির্যাতনের তদন্তই করেনি থানা। তদন্তকারী অফিসার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টাই  করেননি। গোটা তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আলিপুর আদালত।  তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তদন্তপ্রক্রিয়ার উপর একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারকে নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। 

Advertisement

কড়েয়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী পরিবারের ওই তরুণীর সঙ্গে ইমতিয়াজ নামে এক যুবকের বিয়ে হয় ২০০৯ সালে। বিয়ের কিছুদিন পর প্রথমে তিনি উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে চলে যান স্বামীর সঙ্গে। পরে ব্যবসার প্রয়োজনে স্বামী দুবাইতে থাকতে শুরু করলে স্ত্রীকেও নিয়ে যান। তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকে স্বামী সহ অন্যরা তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। পণের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এরপর তরুণী কলকাতায় ফিরে আসেন। তারপরেও মানসিক নির্যাতন চলতে থাকে। বাধ্য হয়ে তিনি কড়েয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে চলতি বছরের চার আগস্ট কেস রুজু করে পুলিশ। বধূ নির্যাতন, ভয় দেখানো সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু হয়। তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অক্টোবর মাসে তদন্তকারী অফিসার জানিয়ে দেন, তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন। পুনরায় তদন্তের আর্জি জানান।
তারপরই গোটা তদন্তপ্রক্রিয়া কীভাবে হয়েছে এবং কী কী নথি জমা পড়েছে, তা খতিয়ে দেখে আদালত। সেখানে ধরা পড়ে, তদন্ত ঠিকমতো হয়নি। ৩০ অক্টোবর আদালত এই সংক্রান্ত বিষয়ে অর্ডার দেয়। তাতে কড়া ভাষায় তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তদন্তকারী অফিসার তদন্তের প্রয়োজনে ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, এমন কোনও নথি নেই। কেসের কোনও প্রকৃত তদন্তই হয়নি। মাত্র দু’জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর এই পদক্ষেপ অভিযোগকারিনীকে বিপদে ফেলবে। সেই সঙ্গে অর্ডারে বলা হয়েছে, আদালত মনে করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন অফিসারের নজরে আনা উচিত। একইসঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব ডিভিশনের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারকে তদন্তের উপর নজরদারি করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।