নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল তাঁর। রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন এক যুবক। তামিলনাড়ু থেকে সোজা ট্রেনে চেপে কলকাতা! কিন্তু, রাগ কমার পরেও তিনি আর বাড়িতে ফিরতে পারছিলেন না। কারণ, তিনি ছিলেন মূক ও বধির। তাই নিজের কথা পথচারীদের বলার চেষ্টা করলেও কেউ বুঝতে পারছিলেন না। পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল লোকজন। কলকাতা থেকে সল্টলেকে ঢুকে পড়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিস। ইন্টারপ্রিটারের মাধ্যমে তাঁর বাড়ির ফোন নম্বরও জোগাড় করা হয়। রবিবার ওই মূক ও বধির যুবককে পরিবারের কাছে ফেরাল পুলিস। যাঁর সঙ্গে ঝগড়া, দুই সন্তানকে কোলে নিয়ে সেই স্ত্রীই নিতে এসেছিলেন থানায়। সঙ্গে ছিলেন ওই যুবকের মাও। তাঁদের সঙ্গে হাসিমুখেই বাড়ি ফিরলেন তিনি।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মূক ও বধির যুবকের বয়স ৩৫ বছর। ২৫ মার্চ সল্টলেকের নয়াপট্টি এলাকায় তিনি উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিস। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পুলিস বুঝতে পারে, তিনি মূক ও বধির। তাঁকে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে আদালতের নির্দেশে ওইদিনই পুলিস বেলেঘাটার একটি শেল্টার হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। হোমে ইন্টারপ্রিটারের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় জানা যায়। ওই যুবক বাড়ির একটি মোবাইল নম্বরও দেন ইন্টারপ্রিটারকে। তারপরই যুবকের ঠিকানা ও ফোন নম্বর তিনি পুলিসকে জানান। পুলিস জানতে পারে, তিনি ট্রেনে করে প্রথমে হাওড়া স্টেশনে নেমেছিলেন। তারপর কলকাতা হয়ে সল্টলেকের নয়াপট্টিতে আসেন। ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার ওই নম্বরে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। তখন পুলিস জানতে পারেন, ওই যুবককে রাগ করে চলে এসেছেন। পুলিসের কাছে ফোন পেয়েই পরিবারের লোকজন সল্টলেকের উদ্দেশে রওনা দেন। রবিবার যুবকের স্ত্রী, দুই সন্তান ও মা ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় আসেন। সজল চোখে তিনি এক সন্তানকে কোলেও তুলে নেন। স্ত্রীর দিকে মিটমিট করে তাকান। মায়ের কাছে অবশ্য মাথা নিচু তাঁর। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সেরে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মুখে ‘ধন্যবাদ’ বলতে না-পারলেও যাওয়ার সময় পুলিসের দিকে তাকিয়ে নমস্কার করলেন যুবকটি। ছলছল চোখেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তাদের সাহায্যে ফিরে পেলেন তাঁর পরিবারকে!