সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ধনেখালি থানার বিষ্ণুপুরে বান্ধবীকে খুনের অভিযোগে ধৃত কৌশিক সর্দারকে নিয়ে গিয়ে বুধবার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিস। গত রবিবার সন্ধ্যায় শিউলি হাঁসদাকে (২২) ডিভিসি ক্যানালের পাশে নিয়ে যায় তাঁর বন্ধু কৌশিক। অভিযোগ, সেখানে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে খুনের পর চম্পট দেয় সে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, শ্বাসরোধের কারণেই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার হুগলি গ্রামীণ পুলিসের একটি দল ধনেখালিতে ডিভিসির খালধারে তল্লাশি চালিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায়। মৃতের মা ধনেখালি থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়ি ধনেখালি থানার পারাম্বুয়া গ্রামে। অভিযুক্ত কৌশিক থাকে ধনেখালির সমোসপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। দু’বছর ধরে শিউলির সঙ্গে কৌশিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ কৌশিক বাইকে করে এসে শিউলিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। বলে, পারাম্বুয়া বাজারে যাচ্ছি। তারপর থেকে শিউলির হদিশ না পেয়ে ধনেখালি থানায় নিখোঁজের অভিযোগ জানাই। সোমবার সকালে উদ্ধার হয় মেয়ের দেহ। গ্রামীণ পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, পুলিস ঠিক সময়ে না পৌঁছলে অভিযুক্ত যুবক আত্মহত্যা করতে পারত। পুলিসের জেরায় ধৃত প্রেমিকাকে খুনের কথা স্বীকার করেছে। অভিযুক্তকে চুঁচুড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার দুপুরে পুলিস তল্লাশি চালিয়ে কৌশিকের মোটরবাইক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। ওই বাইকে করেই সে বান্ধবীকে নিয়ে ডিভিসি ক্যানালের ধারে বেড়াতে গিয়েছিল। এদিন দুপুরে কৌশিকের বয়ানের ভিত্তিতে ক্যানালের কাছে একটি ঝোপ থেকে ওই মৃতার হ্যান্ড ব্যাগ, মোবাইল ফোন এবং হেডফোন উদ্ধার করে পুলিস।