নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরে কিডনি পাচার কাণ্ডে এবার নয়া তথ্য এল পুলিসের হাতে। গত বছর অশোকনগরে দু’টি কিডনি বিক্রি হয়েছিল। সেক্ষেত্রে এক দাতার ৫৭ হাজার টাকা ঋণ ছিল ‘সুদখোর’ বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতলের কাছে। অন্যজনের ঋণ মাত্র ৪০ হাজার টাকা। এই দু’জনের ক্ষেত্রেই জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের থেকে কিডনি দান করার ‘সম্মতি’ দেওয়া হয়নি। কিন্তু ঘুরপথে সেগুলির অনুমতি মিলে যায় বলেই সূত্রের খবর। এই দু’টি ঘটনা জানার পরেই বাকিদের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে চাইছে পুলিস। পাশাপাশি এই কাণ্ডে ধৃত গুরুপদ জানা ওরফে অমিতের সঙ্গে একটি নেফ্রোলজি চিকিৎসা কেন্দ্রের এক পদস্থ কর্মীর নিত্য যোগাযোগ ছিল। এবার তাঁকেও ক’দিনের মধ্যে জেরা করবে পুলিস।
চড়া সুদের চাপ দিয়ে ধৃত সুদখোর বিকাশ অভাবীদের কিডনি বিক্রি করাত। এমন একাধিক অভাবীর তালিকা পুলিসের হাতে এসেছে। সেইসব তথ্য ঘেঁটে হতবাক তদন্তকারীরা। যাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অশোকনগর থানার পুলিস কিডনি পাচারের তদন্ত শুরু করেছে, তাঁর স্ত্রীর কিডনি বিক্রির ক্ষেত্রে জেলাস্তর থেকে ‘নট রেকমেন্ডেড’ হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য হাতের ইশারায় তা ‘রেকমেন্ডেড’ হয়ে যায়। একই ব্যাপার ঘটেছে একাধিক ক্ষেত্রে।
এদিকে কলকাতার একটি নেফ্রোলজি সেন্টারের সঙ্গে ভিনরাজের কিডনি গ্রহীতাদের যোগও পুলিসি তদন্তে উঠে এসেছে। ওই সেন্টারের এক কর্মীর সঙ্গে ধৃত টিম লিডার অমিতের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাই সেই নেফ্রোলজি সেন্টারের কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চলেছে পুলিস। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাঁকে জেরা করলে আরও কিছু নয়া তথ্য হাতে পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, অভাবীরা সুদখোর শীতলের থেকে বছরে ৩৬০ শতাংশ সুদে টাকা ধার নিতেন। অশোকনগরের এক যুবকও সেই চক্রে পা দিয়ে স্ত্রীর কিডনি বিক্রি করেন। এবার পুলিস এমন আরও দুই স্থানীয় কিডনিদাতার খোঁজ পেয়েছেন। যাঁদের মধ্যে একজন মাত্র ৫৭ হাজার টাকা, আরেকজন মাত্র ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শীতলের চাপে কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য হন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় পুরোপুরি গোপন রেখেছে অশোকনগর থানা। এনিয়ে বারাসত পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার স্পর্শ নিলাঙ্গী বলেন, ধৃতদের বয়ান আমরা বিভিন্নভাবে যাচাই করছি। কীভাবে এই কারবার চলছিল, তা প্রকাশ্যে আনা হবে শীঘ্র।