Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতারকদের টার্গেট পুলিশ অফিসাররা, আইসির নামে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে প্রতারণা চক্র

তাই তো নিত্যনতুন পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষকে লোভের ফাঁদে ফেলে লুটছে সাইবার প্রতারকরা।

প্রতারকদের টার্গেট পুলিশ অফিসাররা, আইসির নামে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে প্রতারণা চক্র
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কথায় বলে দুর্জনের ছলের অভাব হয়  না। তাই তো নিত্যনতুন পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষকে লোভের ফাঁদে ফেলে লুটছে সাইবার প্রতারকরা। এবার সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় পুলিশ আধিকারিকদের বেছে তাঁদের ছবি নকল প্রোফাইল ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে নিজের বদলির কথা জানানো হচ্ছে। এরপর ওই সামাজিক মাধ্যমের মেসেঞ্জার ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। সেখানে লেখা হচ্ছে, আমার আচমকা বদলি হয়ে যাওয়ার কারণে বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং দামী ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী কম দামে বেচতে চাই। যদি কেউ ইচ্ছুক থাকেন যোগাযোগ করতে পারেন। আর এই মেসেজ দেখেই অনেকেই প্রতারকদের বিছানো জালে পা দিচ্ছেন। ব্যস, এভাবেই ক্রেতাদের থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। 

Advertisement


সমাজ মাধ্যমে প্রতারকরা যে ব্যক্তি কম দামে ফার্নিচার ও অন্য সামগ্রী কিনতে চান তাঁকে একাধিক ফার্নিচারের ছবি ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ছবি পাঠিয়ে দিচ্ছে। এমনভাবে ফার্নিচারের ছবিগুলি তোলা হচ্ছে যেগুলি দেখলেই স্বাভাবিকভাবে মানুষের পছন্দ হয়ে যাবে। একেবারে প্রায় নতুন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি হবে বলে টোপ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতে সন্দেহ না হয়, সেজন্য প্রতারকরা অনেকেই ফেক আইডি পোস্ট করে দিচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতাদের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। ওই ঠিকানাতেই সবকিছু ডেলিভারি দিয়ে দেওয়া হবে বলে কিছুটা অগ্রিম টাকা চেয়ে নিচ্ছে তারা। এরপর ট্রাকে জিনিসপত্র তুলে ফের ছবি তোলা হচ্ছে। তারপর কিউআর কোড পাঠিয়ে আরও কিছু টাকা চাওয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে প্রতারকরা মালপত্র পাঠানোর আগেই আসবাবের মোট দামের অর্ধেক টাকা তুলে নিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এভাবেই ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কখনও কখনও সেই টাকার পরিমাণ এক লক্ষের কাছাকাছি। এভাবেই একই ছবি দিয়ে একই সঙ্গে ১০-১২ জনের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করে ব্যাপক মুনাফা লুটছে প্রতারকরা। 


সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলার এক থানার আধিকারিকের ছবি ব্যবহার করে একই রকমের সাইবার প্রতারণার চেষ্টা হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই মুর্শিদাবাদের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এভাবে প্রতারণার ধরণ কিন্তু অনেক পুরনো। কিন্তু সেই পুরনো পন্থায় আবার প্রতারণা শুরু হয়েছে। 
ইতিমধ্যে ওই অধিকারিক সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের আসল প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, আমার অন্য কোনও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। আমার নম্বর ও ছবি ব্যবহার করে অন্য কোনও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা থাকলে তা ভুয়ো এবং তা মানুষকে শুধু প্রতারণা করার জন্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ