Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভুয়ো জাতি শংসাপত্র দিয়ে ভর্তি মেডিক্যালে, পুলিসে চাকরি

ভোটার কার্ডে অন্য ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়ো জাতি শংসাপত্র তৈরির ঘটনা ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে।

ভুয়ো জাতি শংসাপত্র দিয়ে ভর্তি মেডিক্যালে, পুলিসে চাকরি
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভোটার কার্ডে অন্য ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়ো জাতি শংসাপত্র তৈরির ঘটনা ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে। হাওড়া সদরের মহকুমা শাসকের দপ্তর থেকে ভুয়ো জাতি শংসাপত্র তৈরি করিয়ে দেওয়ার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে চক্রের মাথাদের পাকড়াও করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে হাওড়া সিটি পুলিসের বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু জাল শংসাপত্র বার করাই নয়, তা কাজে লাগিয়ে ইতিপূর্বে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ বাগিয়ে নিয়েছে এক পড়ুয়া। জাল জাতি শংসাপত্র নিয়ে চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার একাধিক ঘটনা দেখা গিয়েছে অন্যান্য জেলায়। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে শ্রদ্ধা হাজরা নামে ডোমজুড়ের এক বাসিন্দা এসসি সংরক্ষণের আওতায় সর্বভারতীয় নেট পরীক্ষায় পাশ করে উলুবেড়িয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পড়ার সুযোগ পান। শ্রদ্ধা ভুয়ো জাতি শংসাপত্র ব্যবহার করে মেডিক্যালে সুযোগ পেয়েছেন বলে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে হাওড়ার সদরের মহকুমা শাসকের দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরই এক পরিচিত। বিষয়টি নিয়ে ডোমজুড়ের বিডিওকে তদন্তের নির্দেশ দেন এসডিও। তদন্তে দেখা যায়, হাওড়া সদর মহকুমা শাসকের দপ্তর থেকে প্রথমে ‘ইকোনমিক্যালি উইকার সেকশন’ বা ইডব্লুএস সার্টিফিকেট বের করেন শ্রদ্ধা। এরপর সাব ক্যাটিগরিতে সদগোপের বদলে বাগদি ব্যবহার করে জাতি শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেন। সেই ভুয়ো জাতি শংসাপত্র নিয়ে মেডিক্যালে সুযোগ পান শ্রদ্ধা। তাঁর শংসাপত্রটি বাতিল করে দেওয়া হয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, শুধু মহকুমা শাসকের দপ্তর থেকেই নয়, বিভিন্ন জেলায় ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পেও জাল নথি ব্যবহার করে জাতি শংসাপত্র তৈরির বহু ঘটনা রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল-চন্দ্রকোণার বাসিন্দা আকাশ খাঁড়া জেনারেল ক্যাটিগরির হওয়া সত্ত্বেও অন্য এক ব্যক্তির এসসি সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ২০২৩ সালে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পান। তমোঘ্ন দাস নামে এক ব্যক্তির করা আরটিআইতে ধরা পড়ে সেই ঘটনা। এরপর ঘাটাল এসডিওর নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়। ২০২৪ সালের শেষে বাতিল করা হয় ওই যুবকের এসসি সার্টিফিকেট। ২০২৩ সালেই প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে নদীয়ার রানাঘাটে। রানাঘাট-১ ব্লকের বাসিন্দা দীপায়ন মণ্ডল ও দীপিকা মন্ডল ঠিকানা বদল করে রানাঘাট-২ ব্লক অফিসে জাতি শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেন। এরপর ভুয়ো জাতি শংসাপত্র বের করে তা দেখিয়ে দীপায়ন দিল্লি পুলিসের কনস্টেবল পদে চাকরি পান। তার বোন দীপিকাও একইভাবে চাকরি পান রাজ্য পুলিসের লেডি কনস্টেবল পদে। জাতীয় এসসি কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের হলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই (গত বছর) তাঁদের সার্টিফিকেট বাতিল করে দেয় প্রশাসন। হাওড়া জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘এসডিও অফিস কিংবা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে তথ্য বিকৃতি করে জাতি শংসাপত্রের জন্য আবেদনের বহু ঘটনা রয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্তে ধরা পড়েছে অনেকে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ