নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: সংকটের সুযোগে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সাইবার প্রতারণার আশঙ্কা করছে পুলিশ। তাই এব্যাপারে আগাম সচেতনতায় জোর দিচ্ছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। একই সঙ্গে এসআইআর পর্বে ভোটার কার্ড সংক্রান্ত প্রতারণার ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পুলিশ কর্তারা। সে ব্যাপারেও সতর্ক করা হচ্ছে।
আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা রকম ইস্যু তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে সংকট দেখা দিচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে সাইবার প্রতারকরা। গ্রাহকদের মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারির প্রলোভন দেখিয়ে ওটিপি চাইতে পারে। কিউআর কোড স্ক্যান করেও সুবিধা দেওয়ার ছক কষতে পারে প্রতারকরা। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের সাবধানে থাকতে হবে। তাই আমরা বিষয়টি নিয়ে এখন থেকে সচেতন করছি। বৃহস্পতিবার খানাকুল থানায় একটি অনুষ্ঠানে এব্যাপারে বাসিন্দাদের সচেতন করা হয়। সাইবার প্রতারণা নতুন কোনো বিষয় নয়। বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন কৌশলে সাইবার প্রতারণা করা হচ্ছে। খোয়া যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অভিযোগ জানানোর পরেও খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত পাওয়া কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তাই এক্ষেত্রে স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীদের সতর্কতা অন্যতম অবলম্বন করতে হবে। এদিনই খানাকুল থানার পুলিশ গত ফেব্রুয়ারি মাসে সাইবার প্রতারণার শিকার কয়েজনকে ৩ লক্ষ ৩৪ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে। তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি গ্যাসের জোগান নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা চলছে। সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। ইতিমধ্যেই গ্রাহকরা ঘরোয়া গ্যাস বুকিংয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন। তার জেরে তাঁরা ছুটছেন গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসে। বহু জায়গায় গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু, গ্রাহকরা উদ্বেগের মধ্যে কাটাচ্ছেন। অনেকেই বাড়িতে রান্নার গ্যাস সংরক্ষণ করছেন। আবার অনেকে আতঙ্কে গ্যাস সিলিন্ডার আগাম বুকিংও করছেন। আরামবাগেও এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাতেই পুলিশ কর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সাইবার প্রতারকরা ফাঁদ পাততে পারে। তাই বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার কার্ড আপডেট, ডাউনলোড ভোটার স্লিপ, বুথ যাচাই প্রভৃতির ভুয়ো মেসেজ আসতে পারে। এছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত নানা প্রতারণার লিংক আসতে পারে। এরজন্য ওটিপি, আধার নম্বর, ব্যাংকের তথ্য চাওয়া হতে পারে। তাতে সাড়া না দেওয়ার আর্জি জানাচ্ছেন পুলিশ কর্তারা। এসডিপিও বলেন, আমরা বাসিন্দাদের নানাভাবে সচেতন করছি। ফোন বা মেসেজ করে এই ধরনের তথ্য
চাওয়া হয়নি। সেটি গ্রাহকদের খেয়াল রাখতে হবে।