Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তারাপীঠে বিহার গ্যাং, হাতসাফাই রুখতে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে পুলিশ

ঢাকের বাদ্যি আর তারা মায়ের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হতে চলেছে তারাপীঠ

তারাপীঠে বিহার গ্যাং, হাতসাফাই রুখতে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে পুলিশ
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ঢাকের বাদ্যি আর তারা মায়ের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হতে চলেছে তারাপীঠ। কয়েকদিন পরে শক্তিপীঠের সবচেয়ে বড় উৎসব কৌশিকী অমাবস্যা। এবার বৃহস্পতি ও শুক্র দু’দিন ধরে চলবে অমাবস্যা। তারপরই শনি ও রবিবারের ছুটি। সেকারণে চারদিন তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের ভিড় আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে বলে অনুমান করছে পুলিশ। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫-৬ লক্ষ ভক্ত মহাশ্মশান ও মন্দির চত্বরে আসবেন। এই বিপুল ভিড়ে হাতসাফাই করতে পারে ‘ব্যান্ডেল গ্যাং ও বিহার গ্যাং’। সেকারণে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির একাধিক ফেস ডিটেকশন সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু তারাপীঠ নয়, কুম্ভমেলা, গঙ্গাসাগর কিংবা কলকাতার দুর্গাপুজোর মতো মেগা ইভেন্টগুলিতেও হাত সাফাইয়ের কাজ চালায় এই দুষ্কৃতী চক্রগুলি। বিশেষ করে ব্যান্ডেল গ্যাংয়ের মহিলা সদস্যরা কপালে তিলক কেটে ছদ্মবেশ ধারণ করে ভিড়ের মাঝে মিশে যায়। মন্দির প্রাঙ্গণ, আটলা, মুণ্ডমালিনীতলা কিংবা বামদেব ঘাটের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় লাইনে দাঁড়িয়ে মুহূর্তের মধ্যে গলার সোনার হার বা পকেট থেকে মানিব্যাগ গায়েব করে দেওয়া এদের পুরনো কৌশল।
বিগত বছরগুলিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে বহু মহিলা সহ এই গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছিল। তাই এবারও আগেভাগেই কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন। বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, দুষ্কৃতী গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখতে থাকবে আধুনিক প্রযুক্তির একাধিক ফেস ডিটেকশন সিসি ক্যামেরা। জানা গিয়েছে, সাধারণ ক্যামেরা যেখানে শুধুই ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড করে, এই প্রযুক্তি মানুষের মুখমণ্ডলকে আলাদা ফ্রেম হিসেবে চিহ্নিত করে ডেটাবেসে সংরক্ষণ করে রাখে। আগে থেকে সেভ করে রাখা দুষ্কৃতীদের চেহারার তথ্যের সঙ্গে মিল পেলেই তৎক্ষণাৎ সংকেত পাঠাবে এটি। এছাড়া থাকছে এক হাজার সশস্ত্র পুলিশকর্মী, ৩০০ জন উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার এবং ১৭০০জন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকবেন। ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ এবং ১০টিরও বেশি বিশেষ অ্যান্টি-ক্রাইম টিম। ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে সর্বক্ষণ নজরদারির পাশাপাশি থাকবে ১০টি উঁচু ওয়াচ টাওয়ার। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ৩০টিরও বেশি ড্রপগেট থাকবে। মন্দির সহ তারাপীঠ চত্বর ও নদীর ঘাটে একাধিক বিশেষ পুলিশ সহায়তা বুথ খোলা হচ্ছে। যাতে যে কোনো সমস্যায় সাধারণ মানুষ দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন। ইতিমধ্যেই স্থানীয় যেসব দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে আগে ছিনতাই বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ছিল, তাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক হয়। জেলাশাসক ধবল জৈন ও বিধায়ক ধ্রুব সাহা সহ আধিকারিকরা ছিলেন। জেলার পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ বলেন, পর্যাপ্ত উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এছাড়াও থাকবে পর্যাপ্ত ফোর্স ও অ্যান্টি ক্রাইম টিম। সব মিলিয়ে ভক্তদের নির্বিঘ্নে মা তারার দর্শন সুনিশ্চিত করতে এবার কার্যত দুর্ভেদ্য নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে সমগ্র তারাপীঠকে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ