Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্ঘটনা রুখতে ‘স্পট ডেভেলপমেন্ট’ পুলিশের

শহরে পথদুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ৪৩ শতাংশই পথচারী। এই পরিসংখ্যান লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগেরই। স্কুটার-বাইক কলকাতা পুলিশের চিন্তা বাড়ালেও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কার্যত শিরে সংক্রান্তি অবস্থা তাদের।

দুর্ঘটনা রুখতে ‘স্পট ডেভেলপমেন্ট’ পুলিশের
  • ১০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে পথদুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ৪৩ শতাংশই পথচারী। এই পরিসংখ্যান লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগেরই। স্কুটার-বাইক কলকাতা পুলিশের চিন্তা বাড়ালেও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কার্যত শিরে সংক্রান্তি অবস্থা তাদের। এই অবস্থায় প্রতিদিনের হিসাবে ‘পেডেস্ট্রিয়ান ডেনসিটি’ বা ‘পথচারীদের ঘনত্ব’ শহরের কোন কোন ক্রসিংয়ে বেশি থাকে, তা জানতে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল লালবাজার। তার ভিত্তিতে ২০ হাজারের ‘মার্ক’ পার করেছে, এমন ক্রসিং বা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে খবর, দিনে ২০ হাজারের বেশি পথচারীর আনাগোনা রয়েছে, এমন ২৫টি ক্রসিংয়ে শুরু হচ্ছে ‘স্পট ডেভেলপমেন্ট’-এর প্রক্রিয়া। দুর্ঘটনা কমাতে এই স্পটগুলিতে পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে পুলিশ।  

Advertisement

উত্তর, মধ্য, পূর্ব ও দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং চিহ্নিত করেছেন সমীক্ষকরা। তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে বেহালা চৌরাস্তা। এই ক্রসিংয়ে রয়েছে দু’টি স্কুল, একটি মহিলা কলেজ, প্রশাসনিক ভবন, একাধিক ক্লিনিক। তাই সেখানে সারাদিন প্রচুর সংখ্যায় মানুষের রাস্তা পারাপার চলে। তালিকায় আছে ডি এল খান রোড, রাসবিহারী, গড়িয়াহাট, রুবি এবং চিংড়িঘাটা ক্রসিং। উত্তর কলকাতায়ও এরকম একাধিক ‘স্পট’ চিহ্নিত হয়েছে। বাগবাজার স্ট্রিট, বি কে পাল অ্যাভিনিউ, কাশীপুর রোড, বি টি রোড-পাইকপাড়া ক্রসিংয়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে গত দু’বছরে। সব মিলিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এই এলাকাগুলিতে। মধ্য কলকাতায় এক্সাইড মোড় ও পার্ক স্ট্রিট ক্রসিংকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে বলে ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে খবর। সব মিলিয়ে ২৫টি পয়েন্টে শুরু হচ্ছে ‘স্পট ডেভেলপমেন্ট’।  
কী কী কাজ হবে এর মাধ্যমে? একাধিক ক্রসিংয়ে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সিগন্যাল পোস্টের দৃশ্যমানতা ঠিকঠাক নয়। কোথাও ক্রসিংয়ের থেকে সিগন্যালের দূরত্ব অনেকটা। কোথাও আবার রাস্তা বেশি চওড়া হয়েছে। কিন্তু, সিগন্যাল পোস্ট রয়ে গিয়েছে আগের জায়গায়। এগুলো ঠিকঠাক করা হবে। এক্সাইড, গড়িয়াহাট, রাসবিহারীর মতো দক্ষিণ কলকাতার ব্যস্ত ক্রসিংগুলিতে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ম্যানুয়াল সিগন্যালে বদলে ফেলা হতে পারে। চিহ্নিত সব ক্রসিংয়ে পোস্ট ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা উন্নত করছে ট্রাফিক বিভাগ। সেই সঙ্গে ক্রসিংয়ে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বসানো হচ্ছে ‘রাম্বল স্ট্রিপ’ বা ছোটো ছোটো বাম্প। এই ২৫টি ক্রসিংয়ের মধ্যে রয়েছে কয়েকটি ব্যস্ত রাস্তার অংশও। সেখান দিয়ে পথচারীদের নিয়মিত পারাপার থাকলেও কোনো ক্রসিং নেই। তাই গতি নিয়ন্ত্রণে লালবাজারের ভরসা ছোটো বাম্পার। 
একাধিক রাস্তার ফুটপাতের অবস্থা বেহাল। তাই পথচারীরা ফুটপাত থেকে নেমে পড়ছেন রাস্তায়। যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। বেহালা চৌরাস্তাই এর উদাহরণ। সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, রাতের বেলা বাগবাজার স্ট্রিট, বীরেন রায় রোড, বেচারাম চ্যাটার্জি স্ট্রিট সহ একাধিক রাস্তায় দৃশ্যমানতা কম থাকে। সেখানেও ‘স্পট ডেভেলপমেন্ট’-এর মাধ্যমে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। এই মর্মে আগামী সপ্তাহে কলকাতা পুরসভাকে চিঠি দিতে পারে লালবাজার। 
লালবাজারের এক আধিকারিক বলেন, ‘শহরের এই ২৫টি ক্রসিংয়ে পথচারীদের পারাপার সুগম ও সুরক্ষিত করতে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনারদের (ট্রাফিক)।’ সূত্রের খবর, ১৩ জন এসিপি-কে দায়িত্ব দিয়েছেন যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) রূপেশ কুমার। গত সপ্তাহে লালবাজারে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। তারপরই এই সিদ্ধান্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ