Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভিযোগ দায়ের করতে যাওয়া ব্যবসায়ীকে ‘হেনস্তা’ পুলিসের

‘জিরো এফআইআর’-এর যুগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে কার্যত শাটল ককের এক থানা থেকে অন্য থানায় ছুটতে বাধ্য করা হল এক ব্যবসায়ীকে! কোনও অজ পাড়াগাঁ বা প্রত্যন্ত এলাকার কথা নয়।

অভিযোগ দায়ের করতে যাওয়া ব্যবসায়ীকে ‘হেনস্তা’ পুলিসের
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: ‘জিরো এফআইআর’-এর যুগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে কার্যত শাটল ককের এক থানা থেকে অন্য থানায় ছুটতে বাধ্য করা হল এক ব্যবসায়ীকে! কোনও অজ পাড়াগাঁ বা প্রত্যন্ত এলাকার কথা নয়। খাস কলকাতা শহরে এমন ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। মুচিপাড়া থানা, পার্ক স্ট্রিট থানার পাশাপাশি সেন্ট্রাল ডিভিশনের সাইবার সেলে দৌড়েও শেষ পর্যন্ত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি ব্যবসায়ী! স্বভাবতই ‘হেনস্তা’র এই অভিযোগ ঘিরে কলকাতা পুলিসের দুই থানা এবং সাইবার সেলের অফিসারদের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ২০ এপ্রিল সকালে। শিয়ালদহ চত্বরে এ জে সি বোস রোডে লটারির টিকিট বিক্রির দোকান রয়েছে প্রবীর কুণ্ডুর। ওই দিন সকাল ১০টা নাগাদ অজ্ঞাতপরিচয় এক ক্রেতা  লটারির টিকিটের দাম বাবদ ৩৩০ টাকা অনলাইনে প্রবীরবাবুকে ‘পেমেন্ট’ করেন। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ওই অনলাইন পেমেন্টের ৩-৪ দিনের মধ্যে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন (ফ্রিজ) আচমকাই বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করলে প্রবীরবাবুকে পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কারণ, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সাইবার ক্রাইমের প্রতারণার টাকা ঢোকায় তা ‘ফ্রিজ’ করে দিয়েছে কলকাতা পুলিস। ২ মে রাতে প্রবীরবাবুর এনিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে যান স্থানীয় মুচিপাড়া থানায়। তাঁর দাবি, থানা অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। সেখান থেকে তাঁকে সেন্ট্রাল ডিভিশনের সাইবার সেলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দিনকয়েক বাদে প্রবীরবাবু এস এন ব্যানার্জি রোডে সেন্ট্রাল ডিভিশনের সাইবার সেলে যান। সেখানে একদফা নথিপত্র যাচাই করার পর তাঁকে বলা হয়, পার্ক স্ট্রিটে সাউথ ডিভিশনের সাইবার সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, সাউথের সাইবার সেলে তাঁকে ঢুকতেই দেননি কর্তব্যরত পুলিসকর্মীরা! উল্টে তাঁকে পার্ক স্ট্রিট থানায় যেতে বলা হয়। কিন্তু সেখানে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। কারণ, পার্ক স্ট্রিট থানার অফিসার ব্যবসায়ীকে ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পরামর্শ দেন। প্রবীরবাবুর অভিযোগ, স্রেফ একটি অভিযোগ জানানোর জন্য তাঁকে এভাবে চূড়ান্ত হেনস্তা করা হয়েছে। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে, কলকাতা পুলিসের ডিসি (সাউথ) প্রিয়ব্রত রায়কে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’ ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে তিনি সমস্যা মেটাতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ