Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কামারহাটির গুড্ডু, দক্ষিণ দমদমের মৃন্ময়কে হাতকড়া পরিয়ে এলাকায় ঘোরাল পুলিশ

কামারহাটির গুড্ডু ও দক্ষিণ দমদমের মৃন্ময়কে হাতকড়া পরিয়ে এলাকায় নিয়ে যায় পুলিশ। স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিস্তারিত পড়ুন।

কামারহাটির গুড্ডু, দক্ষিণ দমদমের মৃন্ময়কে হাতকড়া পরিয়ে এলাকায় ঘোরাল পুলিশ
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কামারহাটির ‘বস’ গুড্ডু আনসারি ও দক্ষিণ দমদমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ কাউন্সিলার মৃন্ময় দাস নানা অভিযোগে আগেই গ্রেপ্তার হয়েছে। বুধবার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে ওই এলাকায় নিয়ে আসে। এই ছবি তোলার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেকে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি নানা কটুক্তিও করেন। এদিকে, কামারহাটির বাহুবলি আনিসুর রহমান ওরফে গুড্ডুর নামে থানায় নতুন করে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 

Advertisement

কামারহাটির রাজনীতিতে গুড্ডুর রকেট  উত্থান বিধায়ক মদন মিত্রের হাত ধরে। গুড্ডু মদনবাবুর একান্ত ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। এহেন গুড্ডু কামারহাটির পুরানো ও প্রভাবশালী ‘ডন’দের একঘরে করে নিজেই হয়ে উঠেছিল বাহুবলি। উদয় ভিলায় মহিলা কো-অপারেটিভ সোসাইটির জমি দখল করে গোডাউন ব্যবসা, প্রোমোটারি, সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে তোলাবাজি, সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালরাজ চালানো, অস্থায়ী ঠিকাকর্মী নিয়োগে দখলদারি, জমি দখল, মারধরের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে গুড্ডু তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল। মঙ্গলবার তার নামে কামারহাটির ১৫ নম্বর গলি গেটের বাসিন্দা সিদ্ধান্ত গুপ্তা তোলাবাজি ও দোকান থেকে জোর করে জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, গত বছর ডিসেম্বর মাসে গুড্ডুর ও তার দলবল এসে দোকান তুলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সাড়ে ২৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়। গত মার্চ মাসে তার দোকানে এসে ফের ১০ হাজার টাকার সামগ্রী জোর করে নিয়ে যায়। এদিন এই দাপুটে গুড্ডুকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ কামারহাটি জুটমিল সহ একাধিক জায়গায় ঘোরায়। তাকে দেখতে বহু মানুষ জড়ো হয়। অনেকেই মোবাইলে ঘটনার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন। তাঁরা কটাক্ষ করে বলেন, ‘বস’কে কোমরে দড়ি বেঁধে হাফপ্যান্ট পরিয়ে আনলে ভালো হত। 
অন্যদিকে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি সহ একাধিক অভিযোগে শনিবার রাতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা চেয়ারম্যান পারিষদ (জল) মৃন্ময় দাস ওরফে বুবলাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। ওই রাতে বিজেপি কর্মীরা বেদিয়াপাড়ায় মৃন্ময়বাবুর দোতলা কার্যালয় ভেঙে তছনছ করে দিয়েছিল। এদিন তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে বেদিয়াপাড়ায় নিয়ে আসা হয়। বুবলাইকে এই অবস্থায় দেখতে রাস্তার দু’পাশে মানুষের ঢল নামে। সহানুভূতি দূরের কথা, উড়ে আসতে থাকে নানা কটাক্ষ। কেউ বলেন, এখন ক্ষমতা কোথায় গেল? পুলিস দিয়ে আমাদের গ্রেপ্তার করাবে নাকি? আবার কারও উক্তি, মিথ্যা মামলা দেবে? ধরে এনে পার্টি অফিসে মারবে? তারমধ্যে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় পুরো সময় তিনি মাথা নীচু করে নিজের খাসতালুকে ঘোরেন। এদিন স্থানীয়দের মধ্যে মৃন্ময়বাবুর ছবি ক্যামেরাবন্দি করার ক্ষেত্রে মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই সেইসব ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেছেন। সেখানেও কটাক্ষ ও সমালোচনার ঝড় বইছে মৃন্ময়বাবুকে নিয়ে।

সম্পর্কিত সংবাদ