


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে ‘শিখণ্ডী’ করে মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অংশে হিংসা ছড়ানো অপরাধীরা ছিনিয়ে নিয়েছিল পুলিসের গ্লক পিস্তল। ধুলিয়ানে এসডিপিও পদমর্যাদার এক অফিসারকে ঘিরে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ওই বিদেশি পিস্তল ছিনতাই করে দৌড় লাগিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। যদিও সেখানে থাকা পদস্থ আধিকারিকদের তৎপরতায় সেটি কয়েক মিনিটের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। নবান্নের কাছে পাঠানো রিপোর্টে এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কর্তারা বোঝাতে চেয়েছেন, ঠিক কতটা হিংসাশ্রয়ী ছিল তথাকথিত সেই আন্দোলন। পুলিসকে খুন করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের সুতি, সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানের বিস্তীর্ণ অংশে এই ধরনের অশান্তি তৈরি হল কেন, তার কারণ খুঁজছে সিট। তদন্তকারীরা জেনেছেন, সকাল থেকেই এই সমস্ত এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ধর্মস্থানকে ঘিরে বিস্তর গুজব ছড়ানো শুরু হয়। এমনকী সমাজমাধ্যমেও তা ছড়িয়ে দেয় একটি অংশ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকের মুখে মুখে তা ঘুরতে শুরু করে। একে অন্যকে মোবাইলে ফোন করে জানায় কত বড় ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ঘটনাচক্রে সমাজমাধ্যমের যে গ্রুপগুলিতে এই গুজব ছড়ানো হয়েছিল, তার অ্যাডমিনদের সিংহভাগই বাংলাদেশি বলে জেনেছে সিট। সকলকে ডাক দেওয়া হয় তাদের এলাকায় জমায়েত হতে। সেখানে তাদের শক্তি বুঝিয়ে দিতে হবে। পুলিসকে একইঞ্চি জমা ছাড়া যাবে না। এই মানসিকতা থেকেই তারা প্রথম থেকেই আগ্রাসী ছিল। যে কারণে পুলিস যে সমস্ত পথ ধরে আসবে, সেই এলাকার সমস্ত রাস্তা আটকে দেওয়া হয়।
পুলিসকে এমনভাবে ঘিরে ধরা হয়, যাতে কোনওভাবে তারা বেরোতে না পারে। সেই পরিকল্পনামতোই পুলিসকে চারদিক থেকে ঘিরে হামলা চলে। পুলিস কর্মীদের উপর লাঠি, হাঁসুয়া, রডসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চলে। গ্যাস সিলিন্ডার খুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা চলে। বরাত জোরে অনেকেই প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। ওই পুলিস আধিকারিকের গ্লক পিস্তল ছাড়াও উর্দিধারীদের ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। যদিও পুলিস তৎপর ও সজাগ থাকায় তাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। সন্ত্রাসীরা চাইছিল এভাবে পুলিসের মনোবল ভেঙে দিতে। ভয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আসা পুলিস কর্মীরা পিছু হটেন। সেই সুযোগে এলাকায় নিজেদের ‘রাজত্ব’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল হিংসার ব্লুপ্রিন্ট করা অপরাধীরা। কারা গুজব ছড়ানোর পাশাপাশি হামলা চালিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে ধরপাকড় শুরু হয়েছে।
স্বাভাবিক সামশেরগঞ্জ।-নিজস্ব চিত্র