নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বারান্দা থেকে মেয়েকে ঠেলে ফেলা দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর মোড় নিল যাদবপুরের ঘটনা। পুলিসের কাছে দেওয়া বয়ানে, নিজের বাবার বিরুদ্ধেই যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলল নাবালিকা। সেই বিস্ফোরক বয়ানের ভিত্তিতেই জখম নাবালিকার বাবার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার ধারা যুক্ত করল যাদবপুর থানার পুলিস। ইতিমধ্যেই ধৃত বাবা পুলিস হেফাজতে রয়েছে। তাকে পরবর্তী শুনানির দিন জজ কোর্টের পকসো আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে পুলিস সূত্রে খবর।
মদ্যপ অবস্থায় দোতলার বারান্দা থেকে মেয়েকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বাবার বিরুদ্ধে। গত ৭ মার্চ যাদবপুর থানা এলাকার আনন্দপল্লিতে গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। নাবালিকার বয়স ১৫ বছর। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে সে। প্রতিবেশী সংযুক্তা চক্রবর্তীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করে যাদবপুর থানার পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয় গণপিটুনিতে জখম নাবালিকার বাবাকে। লালবাজার সূত্রে খবর, পুলিসের কাছে দেওয়া বয়ানে ধৃত জানিয়েছে, মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়নি।
হাসপাতালে গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল নাবালিকা। সে সুস্থ হওয়ার পরই বয়ান নিতে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে যান তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, নাবালিকা পুলিসকে জানিয়েছে, মা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর প্রায়শই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে রাতে মারধর করত বাবা। একইসঙ্গে, আগে ৩-৪ বার যৌন নিগ্রহ করেছে বাবা। এমনই দাবি করেছে নাবালিকা। তার ভিত্তিতে পকসো আইন মামলা রুজু করেছে থানা। নাবালিকার শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন মিলেছে বলেও খবর। লালবাজারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জখম নাবালিকা এখন সুস্থ রয়েছে। তাকে হোমে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হবে।