নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: পরপর খুন। পুলিশি ভূমিকায় অনাস্থা। এহেন প্রবল জনরোষের আশঙ্কায় সাবধানী রানাঘাট জেলা পুলিশ। সেজন্য তাহেরপুর কামগাছিতে বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় ময়নাতদন্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা কল্যাণী এইমসে করানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এদিকে, খুনের মোটিভ নিয়েও ধন্দে রয়েছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, তাহেরপুরে ছাত্রী খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনা। কামগাছি পোস্টঅফিস পাড়ায় বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত মৃতদেহ। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এই ঘটনায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। নিছক চুরি করতে এসে খুন নাকি ব্যক্তিগত কোনও আক্রোশ থেকে খুন করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। আবার পারিবারিক কারণেও ওই বৃদ্ধাকে খুন করা হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
মৃতার ছেলে দুর্জয় শর্মা বলেন, মায়ের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। ফলে কেউ বিশেষ উদ্দেশ্যে খুন করেছে, তা বলতে পারব না। তবে টাকা ধার দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে একজনের ঘটনার দিন সকালেই বচসা হয়েছিল। মা তার কাছে কুড়ি হাজার টাকা পেত। ওইদিন সন্ধ্যায় সেই টাকা দিয়েও যায় ওই ব্যক্তি। রাতে খুনের পর দেখা যায়, বাড়ি থেকে ওই ২০ হাজার টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। তবে কী ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে এই খুনের পিছনে? মৃতার ছেলের মন্তব্যে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও খুনের কারণ নিয়ে এখনই নিশ্চিত নন তদন্তকারীরা। তাঁরা সবদিক খতিয়ে দেখছেন।
শনিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসেনি ফরেনসিক দল। তবে পুলিশি প্রহরায় ঘেরা রয়েছে ‹ক্রাইম স্পট’। এদিকে, ছাত্রী খুনের পর একইভাবে বৃদ্ধাকে খুনের ঘটনায় রানাঘাট-কৃষ্ণনগর রাজ্য সড়ক অবরোধ হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। পরে পুলিশের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেয় ক্ষুব্ধ জনতা।