Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জয়ন্ত সিং কাণ্ডে মূল সাক্ষীকে গ্রেপ্তার পুলিশের, তীব্র বিতর্ক

জয়ন্ত সিং কাণ্ডে মূল সাক্ষীকে গ্রেপ্তার পুলিশের, তীব্র বিতর্ক
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আড়িয়াদহের ত্রাস জেলবন্দি জয়ন্ত সিংয়ের দলবলকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন ওই কেসের প্রধান সাক্ষী। তাও আবার শুনানির আগের দিন। পরিবারের অভিযোগ, বারাকপুর কমিশনারেটের অফিস থেকেই বিমল পাঁজাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পরিবারের দাবি, প্রভাবশালীদের মদতে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে সাক্ষী ও তাঁর পরিবারকে হেনস্তা করতে চাইছে। যদিও বেলঘরিয়া থানার পুলিশ এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আড়িয়াদহের বাসিন্দা বিমল পাঁজার প্রতিবাদী ছেলে ও স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় নাম জড়িয়ে ছিল জয়ন্ত সিং ও তার দলবলের। এরপর জয়ন্তর হাড়হিম অত্যাচারের বিভিন্ন ভিডিও সামনে আসে। পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বেআইনি বহুতল ভাঙা নিয়ে মামলা চলছে হাইকোর্টে। তবে জয়ন্তর মামলার শুনানি ছিল মঙ্গলবার। এই মামলার অন্যতম সাক্ষী বিমলবাবু। মাস দেড়েক আগে সমাজমাধ্যমে বিমলবাবুর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল জয়ন্তর সাগরেদ সুশোভন সরখেলের বিরুদ্ধে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। আদালতের নির্দেশে বিমলবাবুকে পুলিশ একজন দেহরক্ষী দিয়েছে। রবিবার সেই দেহরক্ষী ছুটিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই রাতে সুশোভন সরখেল দলবল নিয়ে এসে ফের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা বেরিয়ে এসে সুশোভনকে আটকে মারধর করে পুলিসের হাতে তুলে দেয়। বিমলবাবু সুশোভনের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। বলেছিলেন তিনি আতঙ্কিত।

Advertisement

এরইমধ্যে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করে। সুশোভনের বাবা স্বপনকুমার সরখেল সোমবার বেলঘরিয়া থানায় বিমল পাঁজা সহ বেশ কয়েকজনের নামে ছেলেকে মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন। ওই কেসে সোমবার রাতেই পুলিশ বিমলবাবুকে গ্রেপ্তার করে। বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ভিডিও বার্তায় সুশোভন বলেন, ‘রবিবার রাতে আচমকা আমার উপর হামলা চালানো হয়। বিমল পাঁজা ও তাঁর লোকজন আমাকে ধরে গলিতে নিয়ে যায়। তারপর বন্দুকের বাট, লোহার রড দিয়ে মারধর করেছে। আমার চোখে, মাথায়, কপালে আঘাত করেছে।’ এদিন আদালতে পেশ করার সময় অভিযোগ অস্বীকার করে বিমল পাঁজা বলেন, ‘আমি কাউকে মারধর করিনি। জয়ন্ত সিংয়ের মামলায় যাতে সাক্ষ্য দিতে না পারি, সেকারণে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। কারণ আমি ওই ঘটনায় প্রধান সাক্ষী।’ তাঁর আইনজীবী সুপ্রিয় মজুমদার বলেন, রবিবার রাতে বিমলবাবু থানায় হুমকির অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। এ নিয়ে পুলিশ কমিশনারের অফিসে বিমলবাবু সোমবার অভিযোগ জানাতে গেলে গেটের সামনে থেকেই তাঁকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। বিমলবাবু অপরাধ করলে ঘটনার রাতে তিনি যখন থানায় গেলেন, কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল না? খুনের চেষ্টা হলে কীভাবে সুশোভন সরখেল ওখান থেকে চলে এলেন? সিসি ক্যামেরার সম্পূর্ণ ফুটেজ খতিয়ে দেখলে সত্যিটা সামনে আসবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ