নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নবান্ন অভিযানের অনুমতি আগেই বাতিল করেছিল হাওড়া সিটি পুলিস। এরপর হাইকোর্টের তরফে সোমবার যে কোনও ধরনের বেআইনি জমায়েতকে আইনি পথে নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ পেয়েছে পুলিস। হাইকোর্টের আশ্বাস পেয়ে দিনভর কেনাবেচা সচল রাখছেন মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরাও। এদিকে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আজ, সোমবার নবান্ন অভিযানের কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করতে বদ্ধপরিকর শিক্ষকদের দুই সংগঠন। বেআইনি জমায়েত ঘিরে হতে পারে অশান্তি। তাই আজ শহরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা দিনভর সচল রাখতে বাড়তি তৎপর পুলিস। রেল মিউজিয়াম থেকে ফোরশোর রোড ঢাকছে ব্যারিকেডের বলয়ে।
শনিবারই সাংবাদিক সম্মেলন করে হাওড়ার পুলিস কমিশনার প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সোমবার নবান্ন অভিযানের নামে বেআইনি জমায়েত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি পথে ব্যবস্থা নেবে পুলিস। সেই অনুযায়ী জমায়েত বা মিছিল ঘিরে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে প্রশাসন যে গত দু’বারের নবান্ন অভিযানের ঘটনার মতো নমনীয় ভূমিকা নেবে না, তারই বন্দোবস্ত চোখে পড়ল হাওড়া থানার সামনে। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের আটক বা গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন হতে পারে। সেকারণে প্রচুর সংখ্যায় ভ্যান নিয়ে আসা হয়েছে। মোতায়েন থাকছে একাধিক কমিশনারেট থেকে আনা পুলিস বাহিনী, র্যাফ, জল কামান। রেল মিউজিয়ামের সামনে প্রথমে জমায়েত হওয়ার ডাক দিয়েছে শিক্ষকদের দুই সংগঠন। তাই জমায়েতকে সেখানেই ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর পুলিস। গ্র্যান্ড ফোরশোর রোড, বার্ন স্ট্যান্ডার্ড মোড়, ফোরশোর রোড, জগৎ ব্যানার্জি ঘাট রোড, কাজিপাড়া ক্রসিংও থাকছে ব্যারিকেডের বলয়ে। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘বলপ্রয়োগের পথে না গিয়ে কীভাবে জমায়েতকে প্রতিহত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, প্রাথমিকভাবে তার ব্যবস্থাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও যাতে হাট সচল রাখতে পারেন, সেদিকেও নজর থাকবে।’
হাওড়া থানার উল্টোদিক থেকে হাওড়া ময়দান চত্বরজুড়ে বসা মঙ্গলাহাটে রবিবার রীতিমতো ঠাসা ভিড় ছিল। পুজোর আগে ভিন রাজ্য থেকে আসছেন পাইকারি ও বড় খরিদ্দাররা। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভিড় তো লেগেই রয়েছে। হাইকোর্টের আশ্বাস পাওয়ায় খুশি ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসা দোকানিরা।
তাঁদের অনেকেই বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার মনে হচ্ছে পুজোর বাজার খানিকটা ভালো হবে। কিন্তু এ মাসের প্রথম দু’সপ্তাহে যেভাবে ব্যবসা মার খেয়েছে, তাতে ভয় ছিল। মহামান্য হাইকোর্টের তরফে আমরা আশ্বাস পেয়েছি।’ পোড়া মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত বলেন, ‘প্রশাসনের উপর ভরসা রয়েছে। আজ যথারীতি আমরা হাট খোলা রাখব।’ মূলত সোম ও মঙ্গলবার মঙ্গলাহাটের ১৮টি হাট বিল্ডিং ও ফুটপাত মিলিয়ে লক্ষাধিক ব্যবসায়ী, শ্রমিকের গিজগিজে ভিড় লেগে থাকে। তাই রেল মিউজিয়াম থেকে মাত্র সাড়ে আটশো মিটার দূরে যাতে কোনওভাবে বিশৃঙ্খলা না ছড়ায়, হাওড়া সিটি পুলিসের কাছে আজ এটাই চ্যালেঞ্জের।