সংবাদদাতা, খড়্গপুর ও বেলদা: অবশেষে জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো বা ই-রিক্সা চলাচল বন্ধ করতে উদ্যোগী হল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহরের রিং রোড বা বড় রাস্তাতেও টোটোর অবাধ বিচরণে এবার রাশ টানা হবে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে সেই ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি করা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দুই শহরে টোটোর নির্দিষ্ট গতিপথ বেঁধে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।
গত ৭ আগস্ট জাতীয় ও রাজ্যসড়ক সহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটো বা ই-রিক্সা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাজ্যের পরিবহণ দপ্তর। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও গত সপ্তাহে খড়্গপুরে এসে টোটো চলাচলে রাশ টানার পক্ষে জোর সওয়াল করেছিলেন। তাঁর মতে, টোটোর কারণেই জাতীয় ও রাজ্য সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। তা সত্ত্বেও পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৬ ও ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে দেদার চলছিল টোটো। আর রাজ্য সড়কে তো কথাই নেই! গত ১৪ আগস্ট ‘বর্তমান’-এ সেই খবর প্রকাশিত হয়। তারপরই নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। ওইদিনই সন্ধ্যা নাগাদ খড়্গপুর গ্রামীণ থানায় এসে পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছিলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসের পরই আমরা জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ করব। শহরের মধ্যেও যানজট রুখতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
পুলিশ সুপারের কথামতোই মঙ্গলবার থেকে ১৬নং ও ৬০নং জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। খড়্গপুর, বেলদা, দাঁতন ও কেশিয়াড়িতে ১৬নং জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে জোরদার নজরদারি চলছে। বেলদার ট্রাফিক ওসি সঞ্জিত থাপা বুধবার জানান, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছি। আপাতত চালকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আগামীদিনে জরিমানা করা হবে।’ খড়্গপুর শহরের ট্রাফিক ওসি সঙ্গীত রায় বলেন, ‘খড়্গপুর শহরের মধ্যেও টোটো চলাচলে রাশ টানা হবে। সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে টোটো গতিপথ বেঁধে দেওয়া হবে।’ মেদিনীপুরের ট্রাফিক ওসি প্রদীপ মণ্ডল জানান, মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন ৬০নং জাতীয় সড়কেও অভিযান চালানো হবে। শহরের মধ্যেও টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। খড়্গপুর শহরকে যানজট মুক্ত করতে বুধবার খড়্গপুর শহরের কৌশল্যা থেকে মহকুমা হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তায় অভিযান বিশেষ অভিযানও চালানো হয় ট্রাফিক পুলিশের তরফে। ব্যস্ততম ওই রাস্তার উপর বাইক সহ কোনো যানবাহন রাখা যাবে না বলে এদিন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বেশ কয়েকজন বাইকের মালিককে জরিমানাও করা হয়। সেইসঙ্গেই দোকানের জিনিসপত্র যাতে রাস্তার উপর উঠে না আসে, সেই বিষয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের।