নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোকায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (আইআইএম, কলকাতা) বয়েজ হস্টেলে ধর্ষণের অভিযোগটি নিয়ে একাধিক ধন্দ রয়ে গিয়েছে। ‘নির্যাতিতা’ তরুণী সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা নাগাদ হস্টেল থেকে বেরিয়ে অভিযোগ করলেন তখনই এবং তাঁর মোবাইল বাজেয়াপ্ত করতে দিলেন না কেন, তা নিয়ে রহস্য বাড়ছে। জটিলতা আরও বেড়েছে নির্যাতিতার বাবা সংবাদমাধ্যমের কাছে শনিবার দাবি করেছেন যে, তাঁর মেয়েই জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে এরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি! এমনকী ‘মেডিক্যালে’ কী বলতে হবে পুলিস তা বলে দিলেও আমার মেয়ে সেকথা সেখানে বলেননি! এমনকী, তিনি দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হন। মেয়ের লিখিত বয়ানের উল্টো কথা বলে রহস্য বাড়িয়েছেন অভিযোগকারিণীর বাবা। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ পুলিস। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে এই অভিযোগের প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে পুলিস।
পুলিসের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে নির্যাতিতা জানান, সকাল ১১টা নাগাদ তিনি জোকা আইআইএমে যান। বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ ওই ছাত্রের দেওয়া কিছু খাবার খেয়েই তিনি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এরপর কখন তাঁর ঘোর কাটল? তার নির্দিষ্ট সময় তদন্তকারীদের জানাতে পারেননি ওই তরুণী। তিনি সেদিন রাত ৯টা নাগাদ হরিদেবপুর থানায় পৌঁছন। সেখান থেকে তদন্তকারীরা অনুমান করেন যে, রাত ৮টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত তরুণী ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরেই আটকে ছিলেন। কিন্তু তাঁর ঘোর কাটার সময়টা তিনি বলতে পারছেন না কেন? এনিয়ে প্রশ্ন রয়েছে পুলিসের মনে।
শনিবার আলিপুর আদালতে এই ‘সময়’ নিয়েই প্রশ্ন তোলেন অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী সুব্রত সরদার। তিনি আদালতে বলেন, মেয়েটি রাত ৮টা ৩৫ মিনিট নাগাদ বেরলেন, আবার ওইসময়েই এসে অভিযোগ করলেন! এটা কী করে সম্ভব? আর মেয়েটি প্রথমে ‘সেক্সুয়াল অ্যাসাল্ট’ বা যৌননির্যাতনের কথা বললেও পরে পেন দিয়ে ‘ওভাররাইট’ করে সেখানে ‘সেক্সুয়াল পেনিট্রেশন’ কথাটি লেখেন। অভিযোগপত্র খুঁটিয়ে দেখলেই তা ধরা পড়ছে। আর নির্যাতিতার সামনেই যে পিৎজা আনা হল, তার মধ্যে ‘আচ্ছন্ন করার ওষুধ’ মেশানো হল কীভাবে?
তরুণী হরিদেবপুর থানায় যাওয়ার আগে ঠাকুরপুকুর থানায় গিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে যাওয়া-আসার জন্য একটা সময় গিয়েছে। তাই নির্দিষ্ট কোন সময়ে তিনি আইআইএম থেকে বেরলেন, তা জানার জন্য সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজই ভরসা তদন্তকারীদের। সেখান থেকেই জানা যাবে, তিনি কখন ঢুকলেন এবং বেরিয়ে গেলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেয়ে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে পুলিস। নির্যাতিতাকে সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসককে কিছুই বলেননি তিনি। তার প্রমাণ মিলেছে তাঁর বাবার বক্তব্যে।
তরুণীর বাবা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে জানান চিকিৎসককে কী বলতে হবে তা পুলিস বলে দিয়েছিল। কিন্তু আমার মেয়ে তা পুলিসকে বলেননি। রহস্য বাড়িয়ে তাঁর বাবা আরও বলেন, মেয়ে জানিয়েছেন এরকম কোনও ঘটনাই ঘটেনি! তরুণী পুলিসকে তাঁর মোবাইল ফোনও দেননি বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ওই তরুণীকে আটকে রাখা হলেও তিনি কীভাবে ওই ছাত্রের হাত থেকে মুক্তি পেলেন, তা স্পষ্ট করে বলেননি তদন্তকারীদের কাছে।
তাই তদন্তকারীরা তাঁর সঙ্গে আবার কথা বলবেন। পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের উপর জোর দিয়েছে পুলিস। এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে আইআইএম এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযোগকারিণী তাদের সংস্থার কেউ নন। বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়েই দেখছেন। তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করছেন তাঁরা। প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ‘প্রোটোকল’ যথযথভাবে পালন করার উপরেও নজর রাখবেন তাঁরা।