Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেল শহরে মেরুকরণ স্পষ্ট, ৩১টি ওয়ার্ডে হেরে যান প্রদীপ, সংখ্যালঘু চারটিতে জয়

এবার ভোটে সুস্পষ্ট মেরুকরণ হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছে। মুসলিমরা মরিয়া হয়ে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন

রেল শহরে মেরুকরণ স্পষ্ট, ৩১টি ওয়ার্ডে হেরে যান প্রদীপ, সংখ্যালঘু চারটিতে জয়
  • ৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০

মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: এবার ভোটে সুস্পষ্ট মেরুকরণ হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছে। মুসলিমরা মরিয়া হয়ে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। রেল শহর খড়্গপুরের ওয়ার্ডভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি আরো পরিষ্কার হচ্ছে। শুধুমাত্র খড়্গপুর পুরসভা এলাকা নিয়েই খড়্গপুর সদর বিধানসভা। তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৪টিই আবার শাসকদলের দখলে। তা সত্ত্বেও বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ খড়্গপুর সদর বিধানসভায় ৩০ হাজার ৫০৬ ভোটে জয়ী হয়েছেন। ৩১টি ওয়ার্ডেই লিড পেয়েছেন দিলীপবাবু। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের প্রদীপ সরকার মাত্র চারটি ওয়ার্ডে লিড পেয়েছেন। এই চারটি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩, ৪ ও ৫নম্বর ওয়ার্ড সম্পূর্ণভাবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। এই তিনটি ওয়ার্ড থেকে ১১ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৩০ হাজারের বিশাল ব্যবধানে হার স্বীকার করতে হয় খড়্গপুরের প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা ৬নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রদীপ সরকারকে।

Advertisement

বাংলার ভোটে গত কয়েক বছর ধরেই মেরুকরণ হচ্ছে। তবে, এবার যেন সেই মেরুকরণই আরো সুস্পষ্ট হয়েছে। সেই মেরুকরণের প্রবল ঝড়েই খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছেন প্রদীপ। অথচ, খড়্গপুর শহরে কাজের ছেলে হিসেবে সুনাম আছে তাঁর। প্রতিপক্ষ হেভিওয়েট দিলীপ ঘোষ হলেও এবার খড়্গপুরে ভালো ফলের আশা করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। বাস্তবে দেখা গেল, নিজের ৬নম্বর ওয়ার্ডেও দিলীপ ঘোষের থেকে ৮৩৪টি ভোটে পিছিয়ে প্রদীপ। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৩নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রদীপ ১৬৭৬ ভোটে লিড পেয়েছেন। ৪নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় একশো শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। এখানে মোট ভোট পড়েছে ৯৫০৩টি। প্রদীপ ৮৭৯৪টি ভোট পেয়েছেন। দিলীপবাবু মাত্র ১৮৫টি ভোট পেয়েছেন। ৫নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। এখানে প্রদীপ সরকার লিড পেয়েছেন ১০৯০ ভোটের। আর ২৭নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে রেল বস্তি। সেখানে রেলের উচ্ছেদের হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধে আর রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে লড়াই করেছিল তৃণমূল। এই ওয়ার্ডে প্রদীপ ৫৯২ ভোটে লিড পেয়েছেন। 
খড়্গপুরে দলের ২৪ জন কাউন্সিলার থাকা সত্ত্বেও বাকি ওয়ার্ডে এই ফল কেন? প্রদীপ বলেন, এই ফল প্রত্যাশিত নয়। তবে, রাজ্যজুড়েই যে মেরুকরণের ভোট হয়েছে খড়্গপুরও তার ব্যতিক্রম নয়। সেইসঙ্গেই আমি নিশ্চিত ইভিএমে কারচুপি হয়েছে। একাধিক ইভিএমে ৯০ শতাংশের বেশি চার্জ ছিল। প্রতিবাদ ও অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। আমরা মানুষের পাশে আছি। পাল্টা দিলীপ ঘোষ বলেন, অভিযোগ করাটাই ওদের কাজ। দিদির মতোই তাঁর ভাইরাও নাটক আর অভিযোগ করতেই ব্যস্ত। খড়্গপুর সহ গোটা বাংলাই গেরুয়া ঝড় উপভোগ করছে। কেবল তৃণমূলের কয়েকজন ছাড়া।

সম্পর্কিত সংবাদ