


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দফায় দফায় দেশবাসীকে খরচ কমানো সহ নানাবিধ কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা দিয়েছেন। এরপরই অর্থনীতির প্রকৃত পরিস্থিতি ঠিক কী, সেটা নিয়ে সংশয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, রাজকোষের অবস্থা কি সত্যিই বেহাল? এমতাবস্থায় দেশবিদেশে ভারতের অর্থনীতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। জনমনেও আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। সেই কারণেই বুধবার কেন্দ্রীয় সরকার দিয়েছে আশ্বাসবাক্য। কেন্দ্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের অর্থ এটা নয় যে, সব কেনা-বেচা, খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি সতর্কতা জারি করেছেন। কেন্দ্র বলেছে, প্রধানমন্ত্রী ব্যয় কমাতে বলেননি। বলেছেন, বুঝেশুনে ব্যয় করতে। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজকোষ যে শূন্যতার কাছে পৌঁছেছে এমন নয়। বরং আট মাস পণ্য আমদানি করার মতো বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার এখনও রয়েছে। ৬০ দিনের পেট্রল-ডিজেল আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এমনভাবে দেশবাসী ব্যয় করুক যাতে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর অযথা চাপ না পড়ে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী দুই দফায় দেশবাসীর কাছে ব্যয় সংকোচনের আবেদন করার পর এবার কেন্দ্রীয় সরকারের তাবৎ মন্ত্রক সেই পথে হাঁটছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এসপিজি সিকিওরিটি ছাড়া আর কোনো নিরাপত্তা বলয়ের দরকার নেই বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, নিরাপত্তা বলয়ে যে দীর্ঘ গাড়ির কনভয় থাকে, সেটি কমাতে হবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী যে গাড়িতে যাতায়াত করেন সেই গাড়ি যাতে ইলেকট্রিক চালিত হয় সেটাও চেয়েছেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর নিরাপত্তা জনিত কনভয় অর্ধেক করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যেক মন্ত্রককে বলা হয়েছে, যথাসম্ভব বিদেশভ্রমণ কমাতে। যে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জাঁকজমক পরিহার করতে হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারও কনভয় ও জাঁকজমক ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে।