সোমনাথ (গুজরাত): সোমনাথ মন্দিরের বর্ষপূর্তির মহোৎসবে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই মঞ্চ থেকেই বিরোধীদের ‘তোষণ রাজনীতি’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। গুজরাতের গিরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর কংগ্রেস নেতা তথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণে বাধা দিয়েছিলেন।
মোদি বলেন, ‘জাতীয় আত্মমর্যাদার বিষয়টি এ দেশে প্রায়শই রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়। যার বড়ো উদাহরণ এই সোমনাথ। স্বাধীনতার পর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং রাজেন্দ্র প্রসাদ সোমনাথ মন্দির সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু জওহরলাল নেহরু এর বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু এই ধরনের বিরোধিতা সত্ত্বেও সর্দার সাহেব ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজের সংকল্পে অটল ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মন্দির নির্মাণ হয় ও গোটা দেশ শতাব্দীপ্রাচীন একটি কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়। এধরনের বিরোধিতা এখনও জারি রয়েছে।’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রী অযোধ্যায় রামমন্দিরের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘রামমন্দির তৈরির সময়েও দেখেছি কীভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। আজও সেই অশুভ শক্তিগুলি সক্রিয়। এই ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। ঐতিহ্য আর উন্নয়নকে সঙ্গী করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ‘মহাপুজো’য় অংশ নেন মোদি। বিশেষ ডাকটিকিটও প্রকাশ করেন মোদি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর কথায় উঠে আসে ১৯৯৮ সালে পোখরানে পরমাণু পরীক্ষার কথাও। তিনি জানান, ১১ মে শুধুমাত্র সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের জন্যই উল্লেখযোগ্য নয়, ওই দিনই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ীর নেতৃত্বে ভারত পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছিল। তার প্রভাব পড়েছিল গোটা বিশ্বে। ভারত কী করতে পারে, তা প্রমাণ মিলেছিল। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলি ভারতের উপরে আর্থিক চাপ ও বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা প্রমাণিত যে, কোনো শক্তি ভারতের মাথা নত করতে পারবে না। মোদি আরও বলেন, ‘১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করেছিল। কিন্তু ১৯৫১ সালে সোমনাথের মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা ছিল একটি স্বাধীন জাতির গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রকৃত চেতনার প্রতীক। সোমনাথের এই অম্রুত মহোৎসব শুধুমাত্র অতীতের উদ্যাপন নয়, আগামী এক হাজার বছর তা ভারতের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’ এদিনের অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যের শিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।