নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুলিসের তদন্ত নিয়ে খুশি নন পানাগড় কাণ্ডে মৃত চন্দননগরের তরুণীর মা। মঙ্গলবার তিনি পুলিসের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কে পুলিস কেন ছিল না? কেনই বা ঘটনার পর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও, পুলিস কী পদক্ষেপ করল, তা জানতে পারলাম না? গোট ঘটনা নিয়ে চন্দননগরের রায়পাড়ার বাসিন্দারাও এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, এদিন মৃত সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের মা তনুশ্রীদেবীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। রাতে সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম ও যুবনেত্রী মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়ও এসেছিলেন। তাঁরা রাজ্যের নারীসুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
Advertisement
রবিবার রাতের দুর্ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে পুরো একটি দিন। কিন্তু মঙ্গলবারও শোকের ছায়া ছিল চন্দননগর পুরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়ায়। সোমবার গভীর রাতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্ত্রী তথা উদীয়মান নৃত্যশিল্পী সুতন্দ্রার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সেই বিষাদের ছায়া এদিন চট্টোপাধ্যায় পরিবারের চোখেমুখে ছিল প্রকট। তারই মধ্যে তনুশ্রীদেবী তরুণী কন্যার মৃত্যুর সুবিচার চেয়ে জোরাল সওয়াল করেছেন। এদিন তিনি বলেন, দুর্গাপুরের পুলিস কী করতে চাইছে জানি না। কিন্তু ইভটিজারদের হামলার কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। পানাগড়ের সড়কে পুলিস নিরাপত্তা ছিল না। যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমি আমার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল হারালাম। অথচ পুলিস মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করেছে, এমনটা জানাতে পারেনি। এই বাংলায় একজন নারীর নিরাপত্তা কেন থাকবে না, সেই প্রশ্ন আমার আছে। তিনি বলেন, আমার মেয়ে যে গাড়িতে যাচ্ছিল, তার চালক খুব ভালো গাড়ি চালায়। তিনি কখনও রেষারেষি করে গাড়ি চালান না। গাড়ির চালক থানায় ইভটিজিংয়ের অভিযোগই করেছেন। তবে তা লিখিত ভাবে হয়নি বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। তনুশ্রীদেবী বলেন, আমরা প্রয়োজনে পৃথক অভিযোগ করব। প্রসঙ্গত, এদিন গাড়ির চালক সহ মৃত নৃত্যশিল্পীর রবিবারের দুই সঙ্গীও তনুশ্রীদেবীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। এদিন মহিলা কমিশনের একটি দলও চন্দননগরের মৃত নৃত্যশিল্পীর বাড়িতে এসেছিল।



