Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

পুলিস কোথায়! জরুরি নম্বরেও সাড়া মেলেনি,  হাহাকার পুণ্যার্থীদের

পুলিস কোথায়! জরুরি নম্বরেও সাড়া মেলেনি,  হাহাকার পুণ্যার্থীদের
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
লখনউ: একবার শাহি স্নান সারতে পারলে ভরে যাবে পুণ্যের ভাণ্ডার। এই বিশ্বাসে প্রয়াগরাজের সঙ্গমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় জমিয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী। বুধবার কাকভোরের ঘটনায় মেলাজুড়ে নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। স্বজনহারাদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। যাঁরা রক্ষা পেয়েছেন, তাঁরা হন্যে খুঁজতে থাকেন নিকটজনকে। মহারাষ্ট্র থেকে আসা একদল পুণ্যার্থী যোগী প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, ভয়ঙ্কর বিশৃঙ্খলা। আধ ঘণ্টাখানেক পুলিসের টিকির পাত্তা পাওয়া যায়নি। জরুরি নম্বরে ফোন করেও সাড়া মেলেনি। একজন বললেন, কোনওক্রমে বেঁচেছেন তাঁরা। টাকাপয়সা, জামাকাপড় সমস্ত কিছুই তাঁরা হারিয়ে গিয়েছে। এখন ফিরবেন কীভাবে? তাঁদের দলের বেশ কয়েকজন মহিলা স্নান করতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েন তাঁরা। উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের ব্যাসদেব শর্মাও ঘটনার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কোনওক্রমে তিনি জানালেন, ‘হঠাৎই ভিড় জমে গেল। সকলে ছুটে পালাচ্ছে। আমাদের একজন মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। ফিরে দেখলাম, ওর জ্ঞান নেই।’ পরিবারের সবাই তখন সাহায্য চেয়ে আর্ত চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু সবাই তো প্রাণভয়ে পালাচ্ছে। ব্যাসদেবের আক্ষেপ, ‘সবাই ওকে মাড়িয়ে চলে গেল। কেউ একবারও দাঁড়াল না!’ 
Advertisement
দুর্ঘটনার পর কুম্ভমেলা প্রাঙ্গনজুড়ে জুড়ে জুতো, মোজা, আধখোলা খাবারের ব্যাগ, থালা-বাসন সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। স্বজনহারাদের কান্না, আহতের আর্ত চিৎকারে ভরে ওঠে মেলাপ্রাঙ্গণ। রামপ্রসাদ যাদব ভিড়ে পায়ের চাপে পিষ্ট হয়েছিলেন। সুলতানপুরের এই বাসিন্দা বলেছেন, ‘স্নান করতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎই ভিড়ের ধাক্কায় পড়ে গেলাম। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। কিন্তু কেউ ফিরেও তাকায়নি।  তাঁর ৬৫ বছরের বৃদ্ধা মাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। অসহায় রামপ্রসাদ বলেন, ‘জানি না কীভাবে বাড়ি ফিরব।’
দেবিকা নামে এক মহিলা আবার বুধবার ভোর থেকে একের পর এক অনুসন্ধান কেন্দ্রে কাকিমা বাই রাজপুতের খোঁজ করে চলেছেন। তাঁর কথায়, ‘রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আমরা ২০ জন মিলে স্নানে বেরিয়েছিলাম। হঠাৎই ভিড় আমাদের সব গ্রাস করে নিল। এরপর দেখি কাকিমা আর আমাদের সঙ্গে নেই।’ এরপরের কয়েক ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধান কেন্দ্রগুলিতে ঘুরে ঘুরে তাঁর দিশাহারা অবস্থা। তাঁর আশঙ্কা, কাকিমা বোধহয় আর বেঁচে নেই। দেবিকার মতো অবস্থা আরও অনেক পুণ্যার্থীরই। দলছুটদের খোঁজখবরে প্রশাসনের তরফ থেকেও কোনও সাহায্য মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ