নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মধ্যমগ্রামের খুন কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবী ও নিহতের প্রাক্তন স্বামীকে জেরা করবে পুলিস। মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস জানতে পেরেছে, খুনের চারদিন আগে সুমিতা ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর প্রাক্তন স্বামী সুদীপ্ত ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল ফাল্গুনী ও তার মা আরতি ঘোষ। কিন্তু কেন? তাহলে কি পুরনো সম্পর্ককে জোড়া লাগানোর চেষ্টা? এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিস।
Advertisement
শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও পিসিশাশুড়ি সুমিতা ঘোষের সঙ্গে সদ্ভাব ছিল ফাল্গুনী ঘোষের। সুমিতা থাকতেন অসমের জোরহাটে। সেখান থেকেই এসেছিলেন মধ্যমগ্রামের ‘লালবাড়ি’তে। পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ের বাসিন্দা সুদীপ্ত ঘোষের তাঁর বিয়ে হলেও পরে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। নিহত সুমিতাদেবীর বাপের বাড়ি সম্ভ্রান্ত। প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে তাঁদের। এদিকে, ফাল্গুনীর সঙ্গে শুভঙ্কর ঘোষের বিয়ে হয় ২০১৮ সালে। ২০২২ সাল পর্যন্ত ফাল্গুনী অসমের জোরহাটে শ্বশুরবাড়িতেই থাকত। তখন থেকেই পিসি শাশুড়ির সঙ্গে ফাল্গুনীর সখ্য। তবে তার পিছনে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। সুমিতার সম্পত্তি ছিল তার ‘টার্গেট’। সুমিতা যখন মধ্যমগ্রামে ফাল্গুনীদের বাড়িতে আসে, তখন তাঁর এটিএমের পিন নম্বর জেনে নিয়েছিল বউমা। সেই সময় পিসি শাশুড়িকে না জানিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকাও তুলেছিল ফাল্গুনী। বিষয়টি জানাজানি হতেই সম্পর্কে চিড় ধরে। তদন্তকারীদের কথায়, সুমিতা গত ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় আসেন। এখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকবেন বলে দাদা সুবল ঘোষকে জানিয়েছিলেন তিনি। সুমিতার কলকাতায় আসার খবর পেয়ে ফাল্গুনী তাঁকে নিয়ে আসেন মধ্যমগ্রামের বীরেশপল্লির ভাড়াবাড়িতে। ‘মার্ডার ফর গেইন’র জন্যই গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পিসিশাশুড়িকে খুন করে ফাল্গুনী ও তার মা আরতি ঘোষ। ধৃতদের কয়েকবার জেরাও করেছে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস। জেরায় জানা গিয়েছে, খুনের আগে সুমিতাকে নিয়ে তাঁর প্রাক্তন স্বামী সুদীপ্ত ঘোষের সমুদ্রগড়ের বাড়িতে গিয়েছিল ফাল্গুনী ও আরতি। বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও কেন তারা সুমিতাকে নিয়ে তাঁর প্রাক্তন স্বামীর কাছে গিয়েছিল, সেটাই রহস্য। ফাল্গুনী পুলিসকে জানিয়েছে, পিসি শাশুড়ির সঙ্গে প্রাক্তন স্বামী সুদীপ্তর সম্পর্ক জোড়া লাগানোই ছিল তাদের লক্ষ্য। শুধু তাই নয়, কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবীর সঙ্গেও মা ও মেয়ে দেখা করেছিল বলে জেরায় জেনেছে পুলিস। তাই, ধৃতদের বয়ান যাচাই করতে এবার তদন্তকারীরা সুদীপ্ত ঘোষকে জেরা করতে চাইছে। সেদিন কী আলোচনা হয়েছিল, তাও জানতে চাইবেন তদন্তকারীরা। তাছাড়া, বিচ্ছেদের পরেও দু’জনের সম্পর্ককে জোড়া লাগানোর পিছনে ফাল্গুনী ও আরতির কি অঙ্ক ছিল, তা খোলসা করতে চাইছেন পুলিস অফিসাররা।



