Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

গ্যাসের দাম বাড়ল ৬০ টাকা, বুকিং ২১ দিনে, যুদ্ধের আঁচ রান্নাঘরেও! মূল্যবৃদ্ধিতে মাথায় হাত আম জনতার

ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধে জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া। সৌদি আরব ও কাতারের একাধিক খনিজ তেল ও গ্যাস প্রকল্পে হামলা চালিয়েছে ইরান।

গ্যাসের দাম বাড়ল ৬০ টাকা, বুকিং ২১ দিনে, যুদ্ধের আঁচ রান্নাঘরেও! মূল্যবৃদ্ধিতে মাথায় হাত আম জনতার
  • ৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধে জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া। সৌদি আরব ও কাতারের একাধিক খনিজ তেল ও গ্যাস প্রকল্পে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই অবস্থায় যুদ্ধের আঁচ সরাসরি পড়ল ভারতবাসীর হেঁশেলে! শুক্রবার গভীর রাতে রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র। অর্থাৎ কলকাতায় গ্রাহক এবার গ্যাস কিনবেন  ৯৩৯ টাকায়। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানো হল ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা।  এখানেই শেষ নয়, সাধারণত গ্যাস বুকিং করার এক-দু’দিনের মধ্যে সিলিন্ডার ডেলিভারি হয়ে যায়। সেই জায়গায় এখনই চার থেকে ছ’দিন লেগে যাচ্ছে কোথাও কোথাও। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে আগামী দিনে এই সময়সীমা আরও বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এমনটাই জানাচ্ছে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশ। তবে এখানেই শেষ নয়! সূত্রের খবর, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সিলিন্ডার ডেলিভারির ২১ দিনের মধ্যে ওই গ্রাহকের আর কোনো বুকিং নেওয়া হবে না। নয়া এই নিয়মে বহু পরিবারকে সমস্যায় পড়তে হবে। কারণ, ২১ দিনের আগে গ্যাসের প্রয়োজন হলেও তা আর মিলবে না। তার উপর যদি সিলিন্ডার ডেলিভারি দিতে চার-পাঁচদিন সময় লেগে যায়, গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, ইন্ডেন ও ভারত গ্যাসের ক্ষেত্রে বুকিংয়ের সময়সীমা করা হয়েছে ন্যূনতম ২১দিন। এইচপি গ্যাসের ক্ষেত্রে সিঙ্গল সিলিন্ডারে ২১ দিন এবং ডাবল সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ৩০ দিন পর বুকিং করা যাবে। তেল সংস্থাগুলির সফটওয়্যার সেই মতো ‘আপডেট’ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর পাশাপাশি, সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে আপাতত প্রযুক্তিগত দিককেই মান্যতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, গ্যাস অফিস বা ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়ে সিলিন্ডার বুকিং করা যাবে না। অনলাইন, মিসড কল বা আইভিআরএস পদ্ধতিতে বুকিং করা যাবে। চলতি যুদ্ধ আবহে গ্রাহকদের একাংশ আরও একটি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। যাঁদের ই-কেওয়াইসি করা নেই, তাঁদের সিলিন্ডার ডেলিভারির জন্য রসিদ ‘জেনারেট’ হলেও বাস্তবে তা মিলছে না। তখন গ্রাহক খোঁজ নিয়ে জানতে পারছেন, ই-কেওয়াইসি না থাকায় ডেলিভারি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমনকি, এই কারণে অনেক ক্ষেত্রে বাড়িতে সিলিন্ডার এনে ফেরত নিয়ে গিয়েছেন ডেলিভারি ম্যান। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা দেয়নি। কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তারপরও কেন গ্রাহকদের এভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, উঠেছে সেই প্রশ্নও। 
তবে অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস ফেডারেশনের সহ সভাপতি বিজনবিহারী বিশ্বাস বলেন, ‘সিলিন্ডার বুকিং নিয়ে গ্রাহকদের এখনই আশঙ্কার কিছু নেই। প্যানিক করার মতো কোনো পরিস্থিতি হয়নি। আমাদের কাছে যা খবর, ইন্ডিয়ান অয়েলের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে গ্যাস মজুত আছে। ফলে সিলিন্ডার ডেলিভারিতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে আমাদের অনুরোধ, সাধারণ গ্রাহক হোন বা উজ্জ্বলা গ্রাহক— সবাই যত দ্রুত সম্ভব ই-কেওয়াইসি করে নিন। সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বর্তমানে সিলিন্ডার ডেলিভারির জন্য ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু পরিস্থিতি যদি আগামী দিনে খারাপ হয়, সেক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক করা হলে বিপাকে পড়বেন গ্রাহকই।’ পাশাপাশি বিজনবাবু জানান, সিলিন্ডার বুকিংয়ের পর যে ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড বা ‘ডিএসি’ জেনারেট হয়, সেটি ব্যবহার করে সিলিন্ডার ডেলিভারি নিলেই সুবিধা। তাতে বুকিং ও ডেলিভারির বিষয়টি অনেক বেশি স্বচ্ছ থাকে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ