


ঢাকা: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিল জামাত-ই-ইসলামি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন গণহত্যায় নাম জড়ায় তাদের। পরবর্তী সময়েও একাধিকবার নাশকতামূলক কাজে নাম জড়িয়েছে দলটির। শেখ হাসিনার আমলে গুটিয়ে থাকলেও, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিয়েছে জামাত। এই পরিস্থিতিতে হঠাত্ করেই দলের তরফে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন জামাতের প্রধান শফিকুর রহমান। বর্তমানে আমেরিকার নিউ ইয়র্কে রয়েছেন শফিকুর। সেখানে কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনের সভায় শফিকুর বলেন, ‘শুধু একাত্তর না, ৪৭ সাল থেকে শুরু করে জামাত-ই-ইসলামির জন্য কেউ যদি কোনও কষ্ট পান, কারও যদি কোনও ক্ষতি হয়ে থাকে, তবে আমি নিঃশর্তে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘আমাদের সংগঠনের একশোটার মধ্যে ৯৯টা সিদ্ধান্ত ঠিক, একটা তো ভুল হতে পারে। একটা ভুল সিদ্ধান্তের জন্য জাতির ক্ষতি হতে পারে।’ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানকে সমর্থন করার যুক্তিও দিয়েছেন জামাত প্রধান। তাঁর দাবি, জামাত তখন মনে করেছিল, পাকিস্তানের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আওয়ামি লিগের নেতারা পাক সরকারের সাহায্য নিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তবে হঠাত্ জামাত প্রধান কেন ক্ষমা চাওয়ার পথে হাঁটলেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আগামী বছর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হবে বলে এখনও ঠিক রয়েছে। তার আগে ভাবমূর্তি ঠিক করতেই নতুন কৌশল নিয়েছেন শফিকুর। যদিও সরাসরি নির্যাতন বা হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেননি তিনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জামাতের আমির কখনই বলেননি, ৭১ সালে গণহত্যার জন্য তাঁরা দায়ী ছিলেন বা জামাতের ইন্ধনে সারা দেশে গণহত্যা হয়েছিল। সেই অপরাধের দায় স্বীকার করে জামাত ক্ষমা চাইছে। তাই শুধুমাত্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই শফিকুর ক্ষমা চাওয়ার ‘নাটক’ করছেন।