


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আনন্দের রং, আবেগের রং যেন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের চেহারা নিয়ে বড়ো বিপদের কারণ না হয়ে ওঠে। দোলযাত্রার প্রাক্কালে এই বার্তাই দিচ্ছেন শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাঁরা জানান, অবিবেচকের মতো রং খেললে চোখ, কান এবং ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। চোখের রেটিনা, কর্নিয়া প্রভৃতি অংশে মারাত্মক চোট লাগতে পারে। তাতে নষ্ট হতে পারে দৃষ্টিশক্তি পর্যন্ত! কানের পর্দা ফেটে যাওয়া, কানে সংক্রমণ, কান থেকে রক্তপাতের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। ত্বকে সংক্রমণ, র্যাশ, এগজিমাও হতে পারে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো রং খেললে।
বিশিষ্ট ইএনটি বিশেষজ্ঞ এবং রাজ্যের একাধিক মেডিকেল কলেজের ইএনটি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ডাঃ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের কানের তিনটি অংশ বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ এবং অন্তঃকর্ণ। কানের পর্দা থাকে বহিঃকর্ণ অংশে। কান বা কানের পাশে বেলুন ফাটালে বা জোরে শব্দ করলে বা আঘাত করলে পর্দা ফেটে যেতে পারে। কান থেকে রক্তপাত হতে পারে। ভুক্তভোগী মাত্র এই মারাত্মক অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত। এমন ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে শ্রবণশক্তি কমে যাবে। সময় নষ্ট না করে চটজলদি ডাক্তার দেখানো উচিত। ইএনটি বিশেষজ্ঞরা জানান, কানের ভিতর একটি আস্তরণ থাকে। জোর করে রং লাগালে তার ভিতর রং ঢুকে যায়। বেরতে চায় না। তাঁরা এমনও রোগী দেখেছেন, দোল খেলার কয়েকমাস পরও রং থাকার ফলে ইনফেকশন হয়েছে। তাই কানে কিছু ঢুকলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। কাঠির ডগায় তুলো নিয়ে নিজেই তা কানে ঢুকিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করা বিপজ্জনক।
রাজ্যের এক নম্বর সরকারি চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অফথালমোলজির প্রাক্তন অধিকর্তা ডাঃ অসীম ঘোষ বলেন, গতবছর এই রং খেলাকে কেন্দ্র করেই কয়েকটি মারাত্মক ঘটনা ঘটেছিল মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যে। আমাদের বাংলায় এমনটা হয়েছিল মুর্শিদাবাদে। জলে ক্যালশিয়াম কার্বাইড নামক রাসায়নিক মিশিয়ে পিচকারিতে ভরে ছুড়ে মারা হয়। তাতেও নষ্ট হয়ে যায় বহুজনের চোখ। এমনকি জোর করে রং খেলার সময় নখের খোঁচাতেও চোখের ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসকদের আরজি, রাসায়নিক রং নয়, ভেষজ রং এবং আবির খেলুন। বাড়ির ছোটো-বড়ো সকলের সঙ্গে সৌজন্য বজায় রেখে আবির খেলা যেতেই পারে। কিন্তু অনিচ্ছুকদের সঙ্গে জবরদস্তি করা অনুচিত। দোলযাত্রা হোক আনন্দের এবং ভালোবাসার উৎসব। উৎসবের দোহাই দিয়ে বিপজ্জনক কিছু করা থেকে বিরত থাকতে হবে। -নিজস্ব চিত্র