Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

নাটকের আলোচনা: ভালোবাসার রং লাল

যক্ষপুরীর অন্ধকারে থাকা মানুষদের এক বিন্দু আলোর সন্ধান দিতে আসে নন্দিনী। এখানে জীবন মানেই কেবল অমানবিক শ্রম। দিনরাত অন্ধকারের গভীরে শুধু খনন, সোনা তোলা।

নাটকের  আলোচনা: ভালোবাসার রং লাল
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

• যক্ষপুরীর অন্ধকারে থাকা মানুষদের এক বিন্দু আলোর সন্ধান দিতে আসে নন্দিনী। এখানে জীবন মানেই কেবল অমানবিক শ্রম। দিনরাত অন্ধকারের গভীরে শুধু খনন, সোনা তোলা। তাদের না আছে কোনও সৃষ্টি, না আছে আনন্দ। উৎসব শব্দটাই অর্থহীন তাদের কাছে। রাজ্যের মাথায় রাজা। যার রক্তচক্ষুর উত্তাপ প্রজাদের শিরা উপশিরায় ক্ষোভের স্রোত বইয়ে দেয়। কিন্তু প্রতিবাদ নেই। ক্ষমতা ও সম্পদের অহংকার যক্ষপুরীকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রেখেছে। সেখানে নন্দিনীর ভালোবাসা যক্ষপুরীর একটুকরো আলো। নন্দিনী-রঞ্জনের প্রেম এই অন্ধকারপুরীতে ভালোবাসার প্রতীক। নন্দিনী রঞ্জনের অপেক্ষায়। আশাবাদী, রঞ্জন আসবেই। তার জন্য সে রক্তকরবী রেখে দিয়েছে। তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাকুরের পরিচালিত ‘নান্দীরঙ্গ’ প্রযোজিত নাটক ‘রক্তকরবী’ সম্প্রতি মঞ্চস্থ হল আকাদেমিতে। 

Advertisement

মুখ্য চরিত্র নন্দিনীর ভূমিকায় তিতাস অপূর্ব। নন্দিনীর আবেগ, প্রেম, ভালোবাসা শুধু নয়, তার প্রতিবাদী চরিত্রও অভিনয়ের মধ্যে ফুটে উঠেছে। অরিন্দম গুহ, রাজা চরিত্রটি উপস্থাপন করেছেন দাম্ভিকতায়। বিশু পাগলের চরিত্রে শুভঙ্কর ভট্টাচার্য, সর্দারের চরিত্রে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ফাগুলালের চরিত্রে শিলাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় বেশ ভালো। গোঁসাইয়ের চরিত্রে সঞ্জয় দাস নির্ভুল নির্বাচন। বাদল দাসের আলো, শুভজিৎ দাসের আবহ ও বিলু দত্তের মঞ্চ ভাবনা নাটকটিকে পূর্ণতা দিয়েছে। রবীন্দ্র নাট্যে গানের একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। সেই দায়িত্ব সামলেছেন রাজু, ঈশিকা, প্রিয়াঙ্কা, মৌ ও ঋতম্ভরা। 
শতাব্দী প্রাচীন নাটকে আধুনিকতার মিশেল দেখা যায় প্রজেকশনের ব্যবহারে। কিছু দৃশ্য মঞ্চ অতিক্রম করে পর্দায় প্রতিফলিত হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার এই পর্যায় হয়তো নতুন কোনও উত্তর খুঁজে দিতে পারে।  
তাপস কাঁড়ার

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ