Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

নাটকের আলোচনা: মানবিকতার গল্প

আইনের বন্ধনে মানুষ মানুষকে বাঁধলে তবেই স্বীকৃতি মিলবে। ভালোবাসার বাঁধনে বাঁধলে নয়! আজব সমাজ। এই কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় নৈহাটি ব্রাত্যজনের নাটক ‘দায়বদ্ধ’।

নাটকের  আলোচনা: মানবিকতার গল্প
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

• আইনের বন্ধনে মানুষ মানুষকে বাঁধলে তবেই স্বীকৃতি মিলবে। ভালোবাসার বাঁধনে বাঁধলে নয়! আজব সমাজ। এই কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় নৈহাটি ব্রাত্যজনের নাটক ‘দায়বদ্ধ’। চন্দন সেনের রচনা, অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নাটকটি সম্প্রতি মঞ্চস্থ হল আকাদেমিতে। 

Advertisement

গল্পের প্রধান চরিত্র গগন ট্রাক ড্রাইভার। ট্রাক নিয়ে সে হিল্লি-দিল্লি করে বেড়ায়। তার সঙ্গী ট্রাকের হেল্পার জীবন। বলতে গেলে জীবন গগনের বাম হাত। আপদে বিপদে সে-ই সহায়। গগন বাড়ি ফিরলে সময় কাটে ঝিনিকের সঙ্গে। ঝিনিক কিছুতেই বাবার সঙ্গ ছাড়ে না।  কলেজ ছাত্রী মেয়েকে গগন তার চালক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা শোনায়। বাবা-মেয়ের এই সুন্দর সম্পর্ককে প্রশ্রয় দিতে চায় না মা সীতা। তার কাছে এ যেন ‘আদিখ্যেতা’! নিজের জীবন দিয়ে মেয়ের প্রতিটি মূহুর্তকে বিচার করে মা। আশঙ্কায় থাকে। তার মতে, মেয়েদের জীবন যে বড় অসহায়! তাই ঝিনিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না সে। তাই এক সময়ের গৃহশিক্ষক দেবুর সঙ্গে যত শীঘ্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। যদিও এই সিদ্ধান্তে মত নেই গগনের। এদিকে, চাকরি জন্য টাকার দরকার দেবুর। একদিন ঝিনিকের কাছে সেই আবদার নিয়ে আসে দেবু। কিন্তু ঝিনিক ও গগন দু’জনেই  টাকা দিয়ে চাকরির বিপক্ষে। সীতার জোড়াজুড়িতে টাকা দিতে বাধ্য হয় গগন। আর তারপরেই বদলে যায় নাটকের ক্লাইম্যাক্স। পরতে পরতে জমে থাকা রহস্য উন্মোচিত হয় নাটকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। টান টান উত্তেজনায় দর্শক নাটকের রহস্যের মধ্যে একাত্ম হয়ে পড়ে ।
গগনের চরিত্রে পার্থ ভৌমিকের অভিনয় অনবদ্য। তাঁর অভিনয় দর্শক মনে দাগ কাটতে বাধ্য। গগনের স্ত্রী সীতার চরিত্রে অসাধারণ দেবযানী সিংহ। একজন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মহিলা পরিস্থিতির চাপে পড়ে যেমন হয়, ঠিক সেটাই তুলে ধরেছেন দেবযানী। তাঁর কথাবার্তা, ভাবভঙ্গিতে অসহায়তা দারুণভাবে উপস্থাপিত। গগনের হেল্পার জীবন (গৌতম চক্রবর্তী) এক আদুরে চরিত্র। বাচনভঙ্গি, রসময়তা, সাবলীল অভিনয়ে তিনি অনবদ্য। ঝিনিকের ভূমিকায় দেবলীনা সিংহও নিজের সেরাটা দিয়েছেন। বাকিরাও যথাযথ। দেবাশিসের মঞ্চভাবনা প্রশংসার দাবি রাখে। সমীর সরকারের আবহ ও সৌমেন চক্রবর্তীর আলো নাটককে এক সুতোয় বেঁধেছে। 
রক্তের সম্পর্ক ছাড়া কি ভালোবাসা মিথ্যা? সমাজের কাছে এই প্রশ্ন রাখে নাটকটি। পিতার মমতা, ভালোবাসা, আবেগ দিয়ে পরের সন্তান মানুষ করা কি পাপ? এ এক কঠিন বাস্তব!  
তাপস কাঁড়ার

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ