নয়াদিল্লি: মাঝ আকাশে হঠাৎ বিভ্রাট। তীব্র ঝাঁকুনি। টালমাটাল অবস্থা। হু হু করে নীচে নামতে শুরু করে বিমান। মঙ্গলবার সকালের এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আহত হলেন যাত্রী ও ক্রু সহ অন্তত ১৫ জন। জানা গিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে আচমকা ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায় বিমানটি। তাতেই বিপত্তি।
ওই ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন কেবিন ক্রু সদস্যরাও। নিরাপদে অবতরণ হলেও সকলেরই চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। গায়ে-হাতে চোটও স্পষ্ট। এমন অভিজ্ঞতা আর চাইছেন না কেউ। ঘটনার প্রসঙ্গে আতঙ্কিত এক যাত্রী বলেন, ‘আচমকাই বিমানটি প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে। একদিকে কাত হয়ে যায়। অনেকেই আসন থেকে ছিটকে পড়েন। কারও মাথায় উপরের লাগেজ রাখার অংশে ধাক্কা লাগে, আবার অনেকের মাথায় ভারী ব্যাগ এসে পড়ে।’ ওই যাত্রীর দাবি, প্রবল ঝাঁকুনির সময় এক শিশুও কোল থেকে ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে। তাঁর কথায়, ‘আবার বিমানে চড়তে ভয় লাগবে।’ অন্য এক যাত্রী জানান, ‘উড়ান শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা কেটে গিয়েছিল। অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ মনে হল বিমানটি যেন থেমে গেল। তারপরই টানা দু’ থেকে তিন মিনিট প্রবল ঝাঁকুনি চলতে থাকে।’ তাঁর দাবি, ওই সময় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী আহত হন। বিমানে শতাধিক যাত্রী ছিলেন বলেও জানান তিনি। বিমানে থাকা ইতালির বাসিন্দা ভিভিয়ানা বলেন, ‘হঠাৎই প্রবল টার্বুলেন্স শুরু হয়। আমার বোন আসন থেকে ছিটকে উপরে উঠে গিয়েছিল। মায়ের মাথায় আঘাত লাগে। আমার মোবাইল ফোনও ছিটকে পড়ে। আমাদের পিছনের সারির কয়েক জন যাত্রী আহত হন। এক জনের মুখ থেকে রক্ত বেরোতে দেখেছি।’ ভিভিয়ানার কথায়, ‘সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল আমরা আর বাঁচব না। ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। আমি কাঁপছিলাম, কাঁদছিলাম। এখনও ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছি না।’ তবে কারও আঘাতই গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এআই২৩৭৯ নম্বরের বিমানটি ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয়। অবতরণের আগে কিছুক্ষণের জন্য সেটি এয়ার টার্বুলেন্সের মুখে পড়ে। এর জেরে বিমানের উচ্চতায় আচমকা পরিবর্তন হয়। যদিও পরে কোনো সমস্যা ছাড়াই বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাঁদের সামান্য চোট লেগেছে, তাঁদের বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে, ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের কিছু আগে এয়ারবাস এ৩২০ বিমানটির উচ্চতা কমে যায়। তবে সেই ঘটনার সঙ্গে টার্বুলেন্সের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আহত যাত্রী ও কর্মীদের সবরকম সহায়তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে তারা।