Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মোবাইল আসক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিশু পাচারের ছক? চাকরির প্রস্তাবে ঘর ছাড়ে মালদহের ২ নাবালক, কাটোয়ায় উদ্ধার

শখ ছিল দামি মোবাইল কেনার। সেই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। কারণ একজনের বাবা ট্রাক্টর চালান, অন্যজনের বাবা দিনমজুর ।

মোবাইল আসক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিশু পাচারের ছক? চাকরির প্রস্তাবে ঘর ছাড়ে মালদহের ২ নাবালক, কাটোয়ায় উদ্ধার
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: শখ ছিল দামি মোবাইল কেনার। সেই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। কারণ একজনের বাবা ট্রাক্টর চালান, অন্যজনের বাবা দিনমজুর । দুই নাবালক পড়ুয়ার মোবাইল আসক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের গোয়ায় মোটা বেতনের কাজের টোপ দেয় এক ব্যক্তি। তার কথামতো এক্সপ্রেস ট্রেনে দুই নাবালক উঠে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ পেয়ে রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে দুই নাবালককে উদ্ধার করে কাটোয়া আরপিএফ। দুই পড়ুয়াকে সোমবার শিশু সুরক্ষা কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাদের বাড়ি মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়। মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ওই ব্যক্তির খোঁজ চালাচ্ছে আরপিএফ।

Advertisement

আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই নাবালক একই স্কুলে পড়াশোনা করে। দু’জনই দুঃস্থ পরিবারের। একজনের কাছে ছোট একটি ফোন ছিল। তাতে গেম খেলা যায় না। সেকারণে দামি মোবাইল কেনার শখ ছিল। কিন্তু তা পূরণ হচ্ছিল না। এই সুযোগই কাজে লাগায় পাচারকারীরা। ফোনে টোপ দেওয়া হয়। বলা হয়, গোয়ায় ভালো কাজ আছে। মোটা টাকা বেতন। সমুদ্র দেখতে পাবে। যখন খুশি বাড়ি আসতে পারবে। দুই নাবালক স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এদিন তারা বাড়ি ছেড়ে ডাউন তিস্তাতোর্সা এক্সপ্রেসের জেনারেল কামরায় ওঠে। পাচারকারীরা অবশ্য অন্য একটি কামরায় ছিল। তারা ট্রেনে উঠেছে বলে জানতে পারে দুই নাবালকের বাড়ির লোকজন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা রেলের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানান। এরপরই অভিযানে নামে আরপিএফ।
কাটোয়ার আরপিএফ ইন্সপেক্টর আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ট্রেনে তল্লাশি অভিযান চলে। তারপরই দুই নাবালককে উদ্ধার করা হয়। আরপিএফের দাবি, দুই নাবালকের সঙ্গে এক ব্যক্তিকে পাঠানো হয়েছিল। সেই ব্যক্তি  তাদের গোয়ায় পৌঁছে দিত। তবে সেই ব্যক্তি আরপিএফকে দেখে আগেই ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে গিয়েছে। আরপিএফ ইন্সপেক্টর বলেন, এটা মানব পাচারের চক্রের কাজ হতে পারে। তারা হয়তো ওই দুই নাবালককে ভুল বুঝিয়ে কোথাও অল্প বেতনে শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। আমরা অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযানে নেমে দু’জনকে দেখতে পাই। চক্রের মাথাদের খোঁজ চলছে। মোবাইলের নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিন আরপিএফের অফিসে বসে দুই পড়ুয়া জানায়, মোবাইল কেনার ইচ্ছা ছিল অনেকদিন ধরে। বাড়িতে কেনার সামর্থ্য নেই। আমাদের ফোনে বলেছিল, গোয়ায় ভালো টাকা বেতনের কাজ আছে। আমাদের হাওড়া যেতে বলা হয়েছিল। সেখান থেকে গোয়া নিয়ে যাওয়া হতো। বাড়িতে কাউকে না জানিয়েই ট্রেনে হাওড়া যাচ্ছিলাম।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ