রায়পুর: ‘নাক-কাটা রাজা রে, দেখ তো কেমন সাজা রে!’ সে বহুকাল আগের কথা। দুষ্টু টুনটুনিকে জব্দ করতে গিয়ে রাজাকে কখনও সাত রানির নাক কাটতে হয়, কখনও খেতে হয় ব্যাঙের ভাজা। শেষমেশ রাজামশাইয়ের নিজেরই নাক কাটা যায়। তবে এই গল্প টুনটুনির নয়। আস্ত একটি মুরগির ছানার। আর এখানে ‘সাজা’? মৃত্যু। মুরগির জ্যান্ত ছানা গিলে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। কিন্তু ক্লাইম্যাক্স তখনও বাকি ছিল। অটপ্সি করার সময় ‘ভক্ষকে’র গলা থেকে জ্যান্ত অবস্থাতেই বেরিয়ে এল ওই ছোট্ট মুরগি। আর তা দেখে চিকিৎসক থেকে শুরু করে সবার চোখ ছানাবড়া। মৃতের নাম আনন্দ যাদব (৩৫)। ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুরের ছিন্দকালো গ্রামের বাসিন্দা। পিতৃত্বের স্বাদ পেতে তান্ত্রিক-তত্ত্বে তাঁর এই পরিণতি হবে, পরিবারও মেনে নিতে পারছে না।
Advertisement
দিন কয়েক আগের কথা। স্নান সেরে বেরিয়ে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান আনন্দ। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। কিন্তু ততক্ষণে প্রাণবায়ু শরীর থেকে বেরিয়ে গিয়েছে তাঁর। কেউ কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। সুস্থ-সবল ছেলেটার হঠাৎ হল কী? ময়নাতদন্তের পর সামনে আসে একের পর এক বিস্ময়। প্রথমে যুবকের গলার কাছে একটি কাটা দাগ দেখা যায়। পরে তাঁর গলার ভিতর থেকে বার করা হয় প্রায় ২০ সেন্টিমিটারের একটি জ্যান্ত মুরগির ছানা। চিকিৎসক জানিয়েছেন, মুরগির ছানাটি গিলে ফেলায় যুবকের শ্বাসনালী ও খাদ্যনালী কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমনকী পেটের ভিতর তার উৎপাতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। তাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই যুবক। চিকিৎসকের কথায়, এযাবৎ ১৫ হাজারের বেশি ময়নাতদন্ত করেছেন। কিন্তু এমন ঘটনা আগে কখনও দেখেননি।
হঠাৎ মুরগির ছানা খেতে গেলেন কেন? গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, এক তান্ত্রিকের পাল্লায় পড়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। বহু চেষ্টা করেও বাবা হতে পারছিলেন না। শেষমেশ তান্ত্রিক তাঁকে এই পরামর্শ দেন। বলেন, জ্যান্ত মুরগির ছানা খেতে পারলেই কার্যসিদ্ধি। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। খোঁজ চলছে তান্ত্রিকের। কিন্তু তাকে পাকড়াও করলেও কি পরিস্থিতি শুধরোবে? গলদ যে গোড়ায়! তান্ত্রিক-ওঝা বা ঝাড়ফুঁকে প্রতিদিন দেশের কোনও না কোনও প্রান্তে অঘটন ঘটে চলেছে। এর কারণ, সচেতনতার অভাব। ডিজিটাল ভারতের প্রচারে এই দেশের সরকার ছুটে চলেছে। আর সমাজের এই অন্ধকার দিক গ্রাস করে চলেছে দেশবাসীকে।
হঠাৎ মুরগির ছানা খেতে গেলেন কেন? গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, এক তান্ত্রিকের পাল্লায় পড়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। বহু চেষ্টা করেও বাবা হতে পারছিলেন না। শেষমেশ তান্ত্রিক তাঁকে এই পরামর্শ দেন। বলেন, জ্যান্ত মুরগির ছানা খেতে পারলেই কার্যসিদ্ধি। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। খোঁজ চলছে তান্ত্রিকের। কিন্তু তাকে পাকড়াও করলেও কি পরিস্থিতি শুধরোবে? গলদ যে গোড়ায়! তান্ত্রিক-ওঝা বা ঝাড়ফুঁকে প্রতিদিন দেশের কোনও না কোনও প্রান্তে অঘটন ঘটে চলেছে। এর কারণ, সচেতনতার অভাব। ডিজিটাল ভারতের প্রচারে এই দেশের সরকার ছুটে চলেছে। আর সমাজের এই অন্ধকার দিক গ্রাস করে চলেছে দেশবাসীকে।



