Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

পূজা

পূজা
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
জীবিত অবস্থায় সমস্ত বন্ধন হইতে মুক্তি এবং অপার্থিব সুখপ্রাপ্তির জন্যই এই শরীর ধারণ। জীবাত্মার চিরকালীন মুক্তিলাভই এই শরীর ধারণের উদ্দেশ্য; সংসার-কামনার জন্য নহে। সেই জিহ্বাই প্রকৃত জিহ্বা, যে জিহ্বা “হরি” “হরি” বলে; সেই চিত্তই প্রকৃত চিত্ত, যাহা হরিতে অর্পিত হয়; যে হাত দুইখানি তাঁহার পূজা করে, সেই হাত দুইখানিই প্রশংসনীয়। সেই হাত দুইখানি হাত বলিয়া উল্লিখিত হয় না, তাহারা বৃক্ষের অগ্রভাগে অবস্থিত পল্লবের তুল্যই হইয়া থাকে, যে হাত দুইখানি হরির চরণ-কমলদ্বয় পূজা করিতে সমর্থ নয়।
Advertisement
যে জিহ্বা হরির গুণ ব্যক্ত করে না, সে জিহ্বা নিশ্চয়ই কণ্ঠ-শালুক (আলজিহ্বা), অথবা প্রতিজিহ্বিকা বলিয়া কথিত হইয়া থাকে, অথবা সে অন্য কোন রোগ—জিহ্বা নহে। যে বিষ্ণুর চরণ-কমল ভক্তিপূর্ব্বক পূজা করে না, সে আত্মীয়-স্বজনগণের শোকের পাত্র হইয়া থাকে এবং জীবিতাবস্থায়ও সে মৃতের তুল্যতা গ্রহণ করিয়া থাকে। যাহারা সর্ব্বদা ভগবান্‌ বাসুদেবের পূজায় রত হয় না, মরিয়াও তাহারা কাহারাও শোকের পাত্র হয় না—আমার এ উক্তি অতীব সত্য। শারীরিক, মানসিক, বাক্যজাত, মূর্ত্ত, অমূর্ত্ত—এই চরাচর বিশ্ব এবং দৃশ্য, স্পৃশ্য ও অদৃশ্য এই সমস্ত কেশবাত্মক। যাঁহার হস্ত, উপস্থ, উদর এবং বাক্য, এই চারিটি উত্তমরূপে সংযত হইয়াছে, পণ্ডিতগণ তাঁহাকেই ব্রাহ্মণ বলিয়াছেন। বেদকেই পণ্ডিতগণ বেদ বলেন নাই, সনাতন ব্রহ্মই বেদ। সেই ব্রহ্মবিদ্যাতে যিনি রত হন, তিনিই ব্রাহ্মণ। মানবগণ বিদ্বেষ ও আসক্তি বর্জ্জিত হইয়া ধর্ম্মমূলক যাহা আচরণ করেন, বিদ্বানগণ তাহাই সদাচার বলিয়া জানেন। ধর্ম্ম ঐ সদাচার-তরুর মূল, ধন শাখা-প্রশাখা, কামনা পুষ্প এবং উহার ফল মোক্ষ। হে সুকেশি! যে ব্যক্তি এই সদাচার-তরুর সেবা করে, সে পুণ্যভোগের অধিকারী হয়। সত্যকে আশ্রয় করা পরম ধর্ম্ম, সত্য আশ্রয় করিলে পরমাগতি লাভ হয়, সত্যের দ্বারা স্বর্গ এবং মুক্তিলাভ হয় এবং সত্যেতে সমস্তই প্রতিষ্ঠিত আছে।
দুঃখ উপস্থিত হইলে যাহার বুদ্ধি বিশিষ্টতা লাভ করে, অর্থাৎ দুঃখে অভিভূত হয় না; সূর্য্য দৃষ্ট হইলে যেমন অন্ধকার নষ্ট হয়, তাহার দুঃখও সেইরূপ বিনষ্ট হয়। যেমন ব্রাহ্মণের একত্ব (অভেদত্ব), সর্ব্বভূতে সমত্ব, সত্যতা, স্বভাব, স্থৈর্য্য, দণ্ডধারণ, ঋজুতা এবং অনন্তর সমস্ত কর্ম্ম হইতে নিবৃত্তিরূপ ধন আছে, তেমন ধন আর ব্রাহ্মণের নাই।
সত্যরূপ জলযুক্ত, সংযমরূপ পুণ্যতীর্থবিশিষ্ট, শীল ও শমরূপ আত্মানদীতে যে পুণ্যবান্‌ স্নান করেন, তিনি নিজে পবিত্র হন। 
স্বামী শংকরানন্দ সংকলিত ‘রত্নমালা’ থেকে
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ