


সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রান্না করতে করতে হঠাৎ গ্যাস শেষ! অতিরিক্ত মজুত করা সিলিন্ডার থাকলে সমস্যা হয় না। যাঁদের সেটা নেই, তাঁদের পড়তে হয় মহা বিপদে। রান্না ছেড়ে সিলিন্ডার বুকিং করতে ব্যস্ত হয়ে যান গৃহকর্তা বা কর্ত্রী। তবে এবার এসবের ঝক্কি আর পোহাতে হবে না বাসিন্দাদের। এই নিয়ে মুশকিল আসান হতে চলেছে শীঘ্রই। কারণ জুন মাস থেকেই পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি গৃহস্থ বাড়িতে সরবরাহ শুরু করে দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি (বিজিসি)। এমনই পরিকল্পনা নিয়ে এগচ্ছে তারা। কল্যাণী অথবা চন্দননগরে এই কাজের সূচনা হবে বলে ঠিক হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে যেখানে যেমন পাইপলাইনের কাজ শেষ হবে, সেখানে এই পরিষেবা চালু করে দেবে কর্তৃপক্ষ। তবে কলকাতায় বাড়ি বাড়ি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে আরও এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে পিএনজি পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্প অনেকদিন ধরেই শুরু হয়েছে রাজ্যে। বিভিন্ন জেলায় পাইপ বসানোর কাজ চলছে জোর কদমে। কবে থেকে মিলবে এই পরিষেবা, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান হচ্ছে। কল্যাণী এবং চন্দননগরে গ্যাস সরবরাহ করার পাইপ বসানোর কাজ অনেকটাই হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া বিজিসি’র দুটি সিটি গেট স্টেশন (যেখান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আসবে) গয়েশপুর এবং মগরাতে করা হয়েছে। এই দুটি জায়গা যথাক্রমে কল্যাণী এবং চন্দননগরের কাছে। তাই যেকোনও একটি জায়গা থেকেই এই পরিষেবার সূচনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিজিসি’র সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সবমিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করার লক্ষ্যমাত্রাও নেওয়া হয়েছে। পাইপ বসানোর কাজ শেষ হলেই, সেখানে গ্যাসের সংযোগ নেওয়ার জন্য প্রচার করা হবে বলে খবর। তবে এখনও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে এবং যশোর রোডে পাইপ বসানোর কাজ বাকি আছে। সেটা হলে অনেকটাই এগিয়ে যাবে এই প্রকল্প। প্রসঙ্গত, বিজিসি কলকাতা ও তার সংলগ্ন দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং নদীয়ার একাংশে পাইপলাইন বসিয়ে বাড়ি বাড়ি গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজারের মধ্যে ৬০০ কিলোমিটার পাইপলাইন ইতিমধ্যে বসে গিয়েছে।