


প্রীতেশ বসু, গঙ্গাসাগর: পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১২টি রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। এখন চলছে শুনানির পর্ব। প্রতিটি রাজ্যেই বহু মানুষ চিন্তিত তাঁদের ভোটাধিকার রক্ষা নিয়ে। তবে এর কোনও প্রভাব পড়েনি গঙ্গাসাগরে। আগামী ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি। এখনও বাকি দিন দশেক। কিন্তু এখন থেকেই পুণ্যার্থীদের ঢল নামতে শুরু করেছে সাগরে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ুর মতো যেসব রাজ্যে এসআইআর চলছে, সেখান থেকেও বহু পুণ্যার্থী ইতিমধ্যে হাজির হয়েছেন গঙ্গাসাগরে। সাগর সঙ্গমে পুণ্যের ডুব দিয়ে পায়ে হেঁটে এসে পুজো দিচ্ছেন কপিলমুনির আশ্রমে।
আজ, সোমবার গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই সফর ঘিরে সেজে উঠেছে গোটা সাগরদ্বীপ। মেসার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। চারিদিক সাজানো হয়েছে আলো, ব্যানার ও তোরণ দিয়ে। এখন থেকেই যেসব পুণ্যার্থী আসতে শুরু করেছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন।
ইতিমধ্যে লট ৮ এবং কচুবেড়িয়া ট্রানজিট পয়েন্টে মুড়িগঙ্গা পারাপারের জন্য ভেসেল পেতে মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। রবিবার মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা অশ্বিনী কুমারের সঙ্গে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এদিনই পুণ্যস্নান সেরেছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশে এসআইআর কেমন চলছে, জানতে চাইলে মুচকি হেসে অশ্বিনী কুমারের জবাব, ‘এখন পুণ্য অর্জনে এসেছি। ওসব নিয়ে ভাবতে চাইছি না।
ওখানে তো সারাক্ষণ এসব নিয়েই চর্চা চলছে। এই পুণ্যের জোরেই হয়তো আমাদের ভোটাধিকার রক্ষা হবে!’ কথায় কথায় জানালেন, তাঁর পরিবারের কেউ শুনানিতে ডাক না পেলেও তাঁদের মহল্লার বেশ কয়েকজনকে ডাকা হয়েছে। একটি পরিবারের মকর সংক্রান্তির সময় গঙ্গাসাগরে আসার কথাও আছে। তবে তাঁরা জানুয়ারির শেষে শুনানির ডাক পেয়েছেন। ফলে সাগরে আসতে কোনও সমস্যা হবে না বলে আশা করছেন তিনি।
তামিলনাড়ুর বাসিন্দা বছর ৫০-এর মীনাক্ষী দেবী এসেছেন ৪০ জনের একটি দলের সঙ্গে। তাঁদের দলপতি গণেশান পিল্লাই বলেন, ‘আমরা সবাই যথাযতভাবে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা করেছি। আমেদর কারও শুনানির নোটিস আসেনি। তবে যতক্ষণ না চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হচ্ছে, ততক্ষণ একটা টেনশন তো আছেই।’ এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর সফর এবং মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে রবিবার বিকেলেও জেলাশাসক অরবিন্দ মিনা সহ পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। তিনি জানিয়েছেন, এসআইআর দিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো যাবে না। এই যে এত কিছুর মধ্যেও মানুষ আসছেন, এটাই তার প্রমাণ।’ কপিলমুনি মন্দিরের জ্ঞানদাস মহন্তর উত্তরাধিকারী সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, এ বছর কুম্ভ না থাকায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা এক কোটি পেরলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।