শিলটন পাল: বর্ষশেষে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল ক্লেটন সিলভা। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারটির উচিত উপরওয়ালাকে ধন্যবাদ জানানো। শনিবার হায়দরাবাদ বনাম ইস্ট বেঙ্গল ম্যাচে যেভাবে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ওর উপর চড়াও হল তাতে বিপর্যয় ঘটতেই পারত। প্রশ্ন জাগে, এটা ফুটবল না কুংফু? স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হায়দরাবাদ গোলকিপার অর্শদীপের লাল কার্ড প্রাপ্য ছিল। ওই ঘটনায় ইস্ট বেঙ্গলের পেনাল্টি না পাওয়াও সমান বিস্ময়কর। অর্শদীপের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ফেডারেশনের। এমনভাবে চললে গোটা সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
Advertisement
ফুটবল বডি-কনট্যাক্ট গেম। চড়া মেজাজ, চোরা ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি চলতেই থাকে। তবে অর্শদীপের আচরণ মোটেও কাম্য নয়। কেন একথা বলছি? ছোট থেকে আমাদের শেখানো হয় ছ’গজের বক্সে গোলকিপারই রাজা। বলের দখল নেওয়ার সময় তাকে টাচ করলেই ফাউল। অর্থাৎ নিজেদের বক্সে বাড়তি অ্যাডভান্টেজ পায় গোলরক্ষক। একবার ক্লেটন আর অর্শদীপের সংঘর্ষের মুহূর্তটি মনে করুন। ফিফটি-ফিফটি বল দখলের সময় গোল ছেড়ে বেরিয়ে আসে অর্শদীপ। ততক্ষণে গতি বাড়িয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছে ক্লেটন। এসব ক্ষেত্রে চোট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাধারণত হাঁটু উঁচুতে রেখে কভার করেন গোলরক্ষক। ফুটবলের ব্যাকরণে সেটাই শেখানো হয়। তাতে অন্যায়ের কিছু নেই। অর্শদীপ কিন্তু এয়ারে বলের দখল নিয়ে থেমে থাকেনি। ফলো থ্রু-তে বুটের স্টাড সোজা বাড়িয়ে দেয় ক্লেটনের তলপেট লক্ষ্য করে। সবচেয়ে বড় কথা, নিজেকে নিয়ন্ত্রণের কোনও চেষ্টাই করেনি তরুণ গোলরক্ষক। এমন গর্হিত অপরাধের একটাই শাস্তি— মার্চিং অর্ডার। কিন্তু সামনে থেকেও অদ্ভুতভাবে চুপ রইলেন রেফারি রামদাসন, যা আমার চোখে রীতিমতো বিস্ময়কর ঠেকেছে।
রেফারি মাত্রই ভুল হতে পারে। তা খেলার অঙ্গ। অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকলে সহকারীর সঙ্গে আলোচনা করেন রেফারি। তাতে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। এক্ষেত্রে রামদাসন ফাউলের বাঁশিও বাজাননি। হায়দরাবাদের গোলরক্ষকের বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও অনুশোচনার চিহ্ন ছিল না। শনিবার ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোশ্যাল সাইটে নিজের বক্তব্য জানাই। অনেকেরই মনে হতে পারে, মোহন বাগানের ঘরের ছেলে হয়ে ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলারকে নিয়ে সহমর্মীতা দেখানো কেন? সাফ বলে রাখি, চিরকালীন রেষারেষির বাইরে আমি একজন ফুটবলার। আর স্পোর্টিং স্পিরিটের স্বার্থে প্রতিবাদের সুর চড়াতে হয়। ফের বলছি, এটা শুধু ফাউল নয় অপরাধও।
রেফারি মাত্রই ভুল হতে পারে। তা খেলার অঙ্গ। অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকলে সহকারীর সঙ্গে আলোচনা করেন রেফারি। তাতে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। এক্ষেত্রে রামদাসন ফাউলের বাঁশিও বাজাননি। হায়দরাবাদের গোলরক্ষকের বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও অনুশোচনার চিহ্ন ছিল না। শনিবার ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোশ্যাল সাইটে নিজের বক্তব্য জানাই। অনেকেরই মনে হতে পারে, মোহন বাগানের ঘরের ছেলে হয়ে ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলারকে নিয়ে সহমর্মীতা দেখানো কেন? সাফ বলে রাখি, চিরকালীন রেষারেষির বাইরে আমি একজন ফুটবলার। আর স্পোর্টিং স্পিরিটের স্বার্থে প্রতিবাদের সুর চড়াতে হয়। ফের বলছি, এটা শুধু ফাউল নয় অপরাধও।



