Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আল-কায়েদা নেতা, মেজর জিয়াকে ক্ষমা করার পথে বাংলাদেশ

ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আল-কায়েদা নেতা, মেজর জিয়াকে ক্ষমা করার পথে বাংলাদেশ
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
ঢাকা: বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের বেকসুর খালাস করে দেওয়ার একাধিক নজির রয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়ার নাম। একসময়ে বাংলাদেশ সেনার এই অফিসার পরবর্তী সময়ে আল-কায়েদার বাংলাদেশ শাখা আনসার-আল-ইসলামের অন্যতম নেতা হয়ে উঠেছিলেন। একাধিক মুক্তমনা ব্লগার খুন ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জঙ্গি কার্যকলাপে অভিযুক্ত এই মেজর জিয়া। ২০১১ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানেও নাম জড়ায় তাঁর। তারপরেই বাংলাদেশ ছেড়ে গাঢাকা দেন এই জঙ্গি নেতা। শেখ হাসিনার আমলে জিয়াকে ফাঁসির সাজা দিয়েছিল আদালত। ১৪ বছর আত্মগোপনে থাকার পর জিয়া বাংলাদেশ সরকারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। একইসঙ্গে জঙ্গি তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রকের কাছেও আবেদন করেছেন তিনি। সূত্রের খবর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন্য জঙ্গিদের মতো জিয়াকেও ক্ষমা প্রদর্শনের পথেই হাঁটতে চলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মেজর জিয়া বেকসুর খালাস পেয়ে বাংলাদেশে ফিরে এলে তা ভারতের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। লস্কর-ই-তোইবা, জেএমবির মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জিয়ার যোগের প্রমাণ ইতিমধ্যেই মিলেছে। তার উপর, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছেন মেজর জিয়া। তারা ভারতে নাশকতামূলক কাজের জন্য উলফার মতো জঙ্গি সংগঠনকে পরিকাঠামোগত ও আর্থিক সাহায্য দিয়ে চলেছে।
Advertisement
জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চাপ বজায় রেখেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। মঙ্গলবার হাসিনার পাসপোর্ট বাতিল করে ঢাকা। পাশাপাশি আরও ৯৬ জনের পাসপোর্ট বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে হাসিনার পক্ষে বাংলাদেশে ফেরা আরও জটিল হয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, হাসিনার পাসপোর্ট বাতিলের পরেই তাঁর ভারতে থাকার ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে দিল্লি। সূত্রের খবর, ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের মাধ্যমে হাসিনার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইঙ্গিত স্পষ্ট, বাংলাদেশ হাসিনাকে ফেরত্ চেয়ে কূটনৈতিক বার্তা পাঠালেও তাতে আপাতত কান দিতে নারাজ ভারত। মুজিব-কন্যা আপাতত ভারতেই থাকছেন। এসবের মধ্যেই জল্পনা বাড়িয়ে আরও দুই বাংলাদেশি কূটনীতিককে দেশে ফিরার নির্দেশ দিয়েছে ইউনুস সরকার। ওই দুই কূটনীতিক আগরতলায় বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, চিকিত্সা করাতে লন্ডনে পৌঁছলেন বিএনপি নেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। লন্ডনে কিছুদিন কাটানোর পর আমেরিকায় জন্স হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে যাবেন তিনি। বুধবার সকালে হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছান খালেদা। সেখানে থেকে তাঁকে হাসপাাতালে নিয়ে যান ছেলে তারেক রহমান। ২০০৭ সালে সামরিক সরকারের আমলে তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি লন্ডনে চলে যান। ২০১৭ সালে শেষবার লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা। সেবার ছেলের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাঁর।
সম্পর্কিত সংবাদ