বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ভাড়ায় খাটছে ২৫ হাজারেরও বেশি ফার্মাসিস্ট লাইসেন্স। সেই অনিয়ম ধরবে কে? ধরার কথা ফার্মাসি কাউন্সিলের। ধরার কথা ড্রাগ কন্ট্রোলের। ওষুধের দোকানে বাস্তবে ফার্মাসিস্ট আছে, নাকি সেটি চলছে ভাড়ার লাইলেন্সে—ড্রাগ কন্ট্রোলের ইনসপেক্টরদের সরোজমিনে গিয়ে তা দেখার কথা। রাজ্যে রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ওষুধের দোকান। আর ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসারদের অনুমোদিত পদের সংখ্যা হল ১৮৩। তার মধ্যে ফিল্ড ফোর্সের (যাঁরা পরিদর্শনে যুক্ত) অনুমোদিত পদের সংখ্যা আরও কম—১৭৫টি। আর বাস্তবে? মোট রয়েছেন ১১৩ জন আধিকারিক (গত তিন মাসেই অবসর নিয়েছেন তিন পদস্থ আধিকারিক)। ফিল্ড ফোর্স আরও কম—১০৬ জনের। যার মানে হল, এক-একজন ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসারের আওতায় রয়েছে ৫৬৬টি ওষুধের দোকান! মানে নিজেদের অন্যান্য প্রশাসনিক ও নানা কাজের পাশাপাশি গড়ে ৫৬৬টি দোকানে তাদের পরিদর্শন করবার কথা, যা কিনা কার্যত অসম্ভব বললেও কম বলা হয়। এখানেই শেষ নয়, পদোন্নতি বা সরাসরি নিয়োগ না হলে আগামী দেড়-দু’বছরের মধ্যে আরও প্রায় ৭ জন পদস্থ ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিকের অবসর নেওয়ার কথা। শুধু তাই নয়, ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসারদের সংগঠন দি টেকনিক্যাল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রেরই খবর, রাজ্যে বর্তমানে ৫০ জন সিনিয়র ড্রাগ ইনসপেক্টর থাকার কথা। আর আছেন? একজনও নয়! আর এই অবস্থা হয়ে রয়েছে ২০২৪ সালের মার্চ থেকেই, প্রায় একবছর হল। তবে ফার্মাসিস্ট ও ফার্মাসি পাশ করা অসংখ্য মানুষের লাইসেন্স ওষুধের দোকানগুলিতে ভাড়ায় খাটছে, এই সংবাদ প্রকাশের পর চাপ বেড়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলে। টানা পরিদর্শন শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়।



