Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফের উত্তরবঙ্গ ভাগের সুর বিজেপি বিধায়কের মুখে, আম জনতার প্রতিক্রিয়া নয়, মন্তব্য ক্ষুব্ধ তৃণমূলের

ফের উত্তরবঙ্গ ভাগের সুর বিজেপি বিধায়কের মুখে, আম জনতার প্রতিক্রিয়া নয়, মন্তব্য ক্ষুব্ধ তৃণমূলের
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে ফের উত্তরবঙ্গ ভাগের আওয়াজ তুললেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। যদিও বাংলাভাগের পক্ষে নই বলে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। আর তৃণমূলের পক্ষ থেকেও বলা হল, উত্তরবঙ্গের মানুষ কোনওভাবেই বাংলা ভাগ চান না। কিন্তু বিজেপির নেতা-নেত্রীরা মাঝেমধ্যে বঙ্গভঙ্গের কথা বলে বিভাজনের রাজনীতি কায়েম করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
Advertisement
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করে রাজ্য সরকার। এবারের বাজেটে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এই বাজেটের উপর বুধ ও বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনা হয়েছে। সেখানে অংশ নেন তৃণমূল ও বিজেপি বিধায়করা। তবে বাজেট আলোচনায় বিজেপি বিধায়কের একটি মন্তব্যে তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন। এদিন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক দাবি করেন, উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত হচ্ছে। সেখানে উন্নয়ন হচ্ছে না। তাই উত্তরবঙ্গকে আলাদা করা হোক।
শিখার এই বক্তব্য সামনে আসার পর বিধানসভার অভ্যন্তরে প্রতিবাদে সরব হন তৃণমূল বিধায়করা। তার ফলে হট্টগোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। শিখা চট্টোপাধ্যায় পরে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের মানুষের কথা আমি বিধানসভায় তুলে ধরেছি। উত্তরবঙ্গের মানুষ চাইছেন ভাগ করা হোক। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা আলাদা রাজ্য করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন হোক। এর আগে বিজেপির একাধিক সাংসদ, বিধায়কের গলায় উত্তরবঙ্গকে ভাগ করার কথা শোনা গিয়েছে। তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল আগের বিধানসভা ও লোকসভা ভোটের সময়। বিশেষ করে বঙ্গভাগের সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা বিজেপি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে মনে করছেন, সেই প্রেক্ষাপটেই ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গভাগের জিগির তুললেন শিখা। তবে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেছেন, আমরা সবসময় চাই বঙ্গের উত্তর অংশের আরও উন্নয়ন হোক। পিছিয়ে পড়া অংশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তার চিন্তাভাবনা করা হোক। কিন্তু বাংলাভাগের পক্ষে আমরা নই। 
অন্যদিকে শিখাদেবীর দাবি, সাধারণ মানুষেরই কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছেন তিনি। এজন্য তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ বাংলাভাগ চান না। শিখাদেবী নিজের বক্তব্যকে সাধারণ মানুষের মুখে বসিয়েছেন। আগামী বিধানসভা ভোটে ওঁর এলাকার মানুষই ওঁকে এর জবাব দেবেন।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ