Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ফের সংঘর্ষে অশান্ত বাংলাদেশ, টানা ধর্মঘটে কর্মীরা, স্তব্ধ রেল

ফের সংঘর্ষে অশান্ত বাংলাদেশ, টানা ধর্মঘটে কর্মীরা, স্তব্ধ রেল
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ঢাকা: বাংলাদেশে কি ক্রমশ আলগা হচ্ছে মহম্মদ ইউনুসের রাশ? গত কয়েকদিনের ঘটনাক্রম যেন সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। হিন্দুদের উপর লাগাতার অত্যাচার, বেকারত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর অস্বাভাবিক দাম, হঠাত্ কর বৃদ্ধি—একের পর এক ইস্যুতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছিল। তা এবার আছড়ে পড়তে শুরু করেছে রেলপথে, রাস্তায়। দিকে দিকে শুরু হয়েছে অশান্তি। রবিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাতটি কলেজের পড়ুয়াদের সংঘর্ষে উত্তাল হয়েছিল রাজপথ। তার রেশ কাটার আগেই সোমবার মধ্যরাত থেকে টানা ধর্মঘট শুরু করেছেন রেলকর্মীরা। দাবি, বেতন ও অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। ধর্মঘটের জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকে রেল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক ট্রেন মাঝপথে রেখে কেবিন থেকে নেমে চলে গিয়েছেন চালক। ঢাকার কমলাপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, পঞ্চগড়, দিনাজপুর সহ বিভিন্ন স্টেশনে সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত যাত্রীরা এসে বসেছিলেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরেও বিকল্প কিছু না পেয়ে বিভিন্ন স্টেশনে শুরু হয় বিক্ষোভ। রাজশাহী স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি সামলাতে সেনাকে ডেকে পাঠাতে হয়। 
Advertisement
অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায় ময়মনসিংহ স্টেশনে। এদিন ভোরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল হাওর এক্সপ্রেস। ময়মনসিংহে আসার পর যাত্রীভর্তি ট্রেন রেখেই ইঞ্জিন থেকে নেমে চলে যান চালক। স্টেশন মাস্টারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন যাত্রীরা। ট্রেন বন্ধ থাকার সুযোগে বাসের ভাড়াও নিমেষে দ্বিগুণ, তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে ট্রেনযাত্রীদের জন্য সরকারি বাসের ব্যবস্থা করে প্রশাসন। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় এতটাই কম ছিল যে, খুব একটা লাভ হয়নি। জটিলতা কাটাতে তড়িঘড়ি আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রেলের আধিকারিকরা। শেষ খবর পর্যন্ত সেই বৈঠকও নিষ্ফলা। ফলে কবে ফের ট্রেন চলাচল শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 
ট্রেনচালক, সহকারী চালক, গার্ড, টিকিট পরিদর্শকের মতো ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মীরা (রানিং স্টাফ) দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত সময়ে কাজের জন্য বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা পেতেন। এছাড়া অবসরের সময় বাড়তি কিছু সুবিধা মিলত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়। সেই সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে পুরনো ব্যবস্থা ফেরাতে হবে—মূলত এই দাবিতেই আন্দোলনে রেলকর্মীরা। আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মীরা বলেন, ‘ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন্তত সেই দাবিগুলি নিয়ে চিন্তাভাবনার আশ্বাস দিলেও ধর্মঘট তুলে নেবেন। কিন্তু সেই আশ্বাসটুকুও তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না।’ যদিও আন্দোলনকারী রানিং স্টাফদের সঙ্গে যে কোনও সময় আলোচনায় বসতে সরকার প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন রেল উপদেষ্টা মহম্মদ ফাওজুল কবির খান। 
শুধু রেল নয়, ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সাভারে ধর্মঘট শুরু করেছেন ট্যানারি শ্রমিকরাও। এদিন সকাল থেকে রাস্তায় তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। আবার খুলনায় শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে তিনদিন ধরে ধর্মঘট পালন করছেন জ্বালানি তেলবাহী ট‌্যাঙ্কার চালক ও খালাসিরা। ফলে অন্তত ১৫টি জেলায় মজুত জ্বালানি তেলের পরিমাণ তলানিতে এসে ঠেকেছে। অনেক পেট্রল পাম্পেই এদিন তেল পাওয়া যায়নি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ