শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: খারাপ, আরও খারাপ, তার চেয়েও খারাপ ইস্ট বেঙ্গল। বছরের পর বছর ব্যর্থতা, হতাশার একঘেঁয়ে চিত্রনাট্য। শনিবার সন্ধ্যায় অস্কার জমানায় সবচেয়ে খারাপ ম্যাচটা খেলল লাল-হলুদ ব্রিগেড। চেন্নাইয়ানের কাছে তিন গোলে হার। আর সেই ‘সুবাদে’ আইএসএলের সুপার সিক্সের আশা শেষ। অবশ্য এই দলের সেরা ছয়ে জায়গা পাওয়ার যোগ্যতাই নেই। তবু স্রেফ লাল-হলুদ জার্সির টানে ১৬ হাজার দর্শক মাঠে এসেছিলেন। তাঁদের আবেগের কানাকড়ি দাম নেই টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে। এই দল জয়ের জন্য নয়, শুধুই খেলার জন্য খেলে। ১৯ ম্যাচে মাত্র ১৮ পয়েন্ট নিয়ে একাদশতম স্থানে ইস্ট বেঙ্গল। অন্যদিকে, চেন্নাইয়ানের পয়েন্ট ২১। দশম স্থানে উঠে এল আওয়েন কোয়েলের দল।
Advertisement
ইস্ট বেঙ্গল এখন রিহ্যাব সেন্টার। আনফিট বিদেশিদের নিশ্চিন্ত আশ্রয়। জামাই আদরে শাঁসালো টাকা দিয়ে তাদের নেওয়া হয়। প্রায় দু’মাস পর নেমে সাউল ক্রেসপো হেঁটে বেড়ালেন। হামাগুড়ি ফুটবল একেবারেই অচল। অবিলম্বে গোটা মেডিক্যাল টিমকে শো-কজ করা উচিত। সাউলকে এতক্ষণ মাঠে রাখার যুক্তি কোথায়? স্প্যানিশ কোচের পাশে বসা সিটিও (চিফ টেকনিক্যাল অফিসার) নিজেকে ফুটবলবোদ্ধা ভাবেন। কোচের কানে ফুসমন্ত্র দিয়ে দলের সাড়ে বারোটা বাজাচ্ছেন তিনি। জঘন্য পারফরম্যান্সের দায় তাঁকেও নিতে হবে। যাই হোক, ম্যাচের ১১ মিনিটে প্রথম গোল হজম করে অস্কার ব্রিগেড। এক্ষেত্রে ক্রেসপোর মিস পাস ধরে আক্রমণে ওঠে চেন্নাইয়ান। কোনর শিল্ড গোলকিপারকে কাটিয়ে দুরূহ কোণে পৌঁছে গিয়ে কোনওরকমে হিল করেন। দায়িত্ব নিয়ে বল জালে জড়ালেন নিশু কুমার (১-০)। এদিন শুরু থেকেই নড়বড়ে তিনি। বিপক্ষ রক্ষণে খনির সন্ধান পেয়ে রোলার চালিয়ে দিল চেন্নাই। এরপর ২১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় আওয়েন কোয়েলের দল। ডানদিক থেকে ইরফানের মাইনাস শরীর ছুড়ে টোকা দেন উইলিয়াম (২-০)। স্রেফ শক্তির জোরে লালচুংনুঙ্গাকে বুলডোজ করলেন কলম্বিয়ার ফুটবলার (২-০)। বাকি সময়ে দিয়ামানতাকোসের একঘেয়ে আস্ফালন গ্যালারির সেরা বিনোদন। ভেনেজুয়েলার সেলিস গত দু’দিন প্র্যাকটিস করেননি। কোনও সময়েই ফিট মনে হয়নি তাঁকে। হাওয়া বুঝে তিনিও স্রোতে গা ভাসিয়েছেন। উজ্জ্বল ব্যতিক্রম বিষ্ণু। হারের দিনেও তাঁর পারফরম্যান্স অবশ্যই তারিফযোগ্য। তাই দলের হতাশার ছবি না বদলালে আগামী মরশুমে তিনিও অন্য কোথাও যোগ দিতে পারেন।
বিরতিতে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে ইস্ট বেঙ্গল। বিপদ বুঝে অল-আউট আক্রমণে এলেন অস্কার। ৫৪ মিনিটে নিশুর ফ্রি-কিক ফাঁকা গোলে ঠেলতে পারলেন না ক্রেসপো। এরপরেও ডেভিড, জেসিনদের ম্যাচ টাইম দেওয়া হয় না। এর ছয় মিনিট পর সহজতম সুযোগ নষ্ট সেলিসের। চোখে রুমাল বেঁধে মারলেও নিশ্চিত গোল। অথচ তিনি বাইরে মারলেন। এই পর্বে সাউল ক্রেসপো আর নিশুর পরিবর্তে ক্যামেরুনের মেসি ও আনোয়ারকে মাঠে নামান অস্কার। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। এদিকে, লাল কার্ড দেখায় পরের মিনি ডার্বিতে নেই লালচুংনুঙ্গা। সংযোজিত সময়ে চেন্নাইয়ানের তৃতীয় গোল চিমাচুকুর (৩-০)। প্রাক্তন দলের জাল কাঁপিয়ে নিজেকে শান্তই রাখেন তিনি। কিন্তু লাল-হলুদ সমর্থকদের মন যে বড়ই অশান্ত।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, রাকিপ (নন্দ), লালচুংনুঙ্গা, ইউস্তে (লাকরা), নিশু (আনোয়ার), জিকসন, সাউল (মেসি), নাওরেম মহেশ, সেলিস, বিষ্ণু ও দিয়ামানতাকোস।
বিরতিতে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে ইস্ট বেঙ্গল। বিপদ বুঝে অল-আউট আক্রমণে এলেন অস্কার। ৫৪ মিনিটে নিশুর ফ্রি-কিক ফাঁকা গোলে ঠেলতে পারলেন না ক্রেসপো। এরপরেও ডেভিড, জেসিনদের ম্যাচ টাইম দেওয়া হয় না। এর ছয় মিনিট পর সহজতম সুযোগ নষ্ট সেলিসের। চোখে রুমাল বেঁধে মারলেও নিশ্চিত গোল। অথচ তিনি বাইরে মারলেন। এই পর্বে সাউল ক্রেসপো আর নিশুর পরিবর্তে ক্যামেরুনের মেসি ও আনোয়ারকে মাঠে নামান অস্কার। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। এদিকে, লাল কার্ড দেখায় পরের মিনি ডার্বিতে নেই লালচুংনুঙ্গা। সংযোজিত সময়ে চেন্নাইয়ানের তৃতীয় গোল চিমাচুকুর (৩-০)। প্রাক্তন দলের জাল কাঁপিয়ে নিজেকে শান্তই রাখেন তিনি। কিন্তু লাল-হলুদ সমর্থকদের মন যে বড়ই অশান্ত।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, রাকিপ (নন্দ), লালচুংনুঙ্গা, ইউস্তে (লাকরা), নিশু (আনোয়ার), জিকসন, সাউল (মেসি), নাওরেম মহেশ, সেলিস, বিষ্ণু ও দিয়ামানতাকোস।
ইস্ট বেঙ্গল- ০ : চেন্নাইয়ান এফসি- ৩
(নিশু-আত্মঘাতী, জর্ডন, চিমা)
(নিশু-আত্মঘাতী, জর্ডন, চিমা)



