


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে যখন খুশি টাকা তুলবে প্রতারকরা! আপনার মোবাইলেই ওটিপি আসবে। কিন্তু, শেয়ার না করলেও প্রতারকরা নিজেদের ডেরা থেকে পড়ে নিতে পারছে সেই ওটিপি! আপনার চোখের সামনেই ফাঁকা হবে, আপনার অ্যাকাউন্ট। এমনই অস্ত্র বাজারে নিয়ে এসেছে প্রতাকরা। এমনই তথ্য হাতে এসেছে পুলিসের। প্রতারকরা বিভিন্ন গ্রাহকের মোবাইলে ‘এপিকে’ ফাইল পাঠাচ্ছে। সেই ফাইল ডাউনলোড করলেই হ্যাক হয়ে যাচ্ছে ফোনের ভিস্যুয়াল অংশ। ফলে, গ্রাহকের স্ক্রিনে ভেসে আসা ওটিপি পড়তে পারছে প্রতারকরা। পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ বা এসএমএসে আসা কোনও ফাইলে যদি ‘ডট এপিকে’ লেখা থাকে, তাহলে ভুল করেও ডাউনলোড করা চলবে না। তা না-হলেই বিপদ আসন্ন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট রয়েছে। সেখানে ঢুকে প্রতারকরা এপিকে ফাইল বানাচ্ছে। তারপর সেই ফাইল হাজার হাজার গ্রাহকের মোবাইলে প্রতারকরা পাঠিয়ে দিচ্ছে। কোথাও অ্যাপ আপডেট করার নামে, কোথাও অফারের নামে, কোথাও বিস্তারিত তথ্যের নামে, কোনও পেমেন্টের অপশনের নামে এই ফাইল থাকছে। বহু মোবাইল কোম্পানির ভিতরের অংশে নিরাপত্তা থাকলেও ভিস্যুয়াল অংশে নিরাপত্তা কম বা নেই। সেই সুযোগকে হাতিয়ার করছে প্রতারকরা। গ্রাহকরা সরল বিশ্বাসে বা কৌতূহলে সেই ফাইল ডাউনলোড করা মাত্রই ফোনের ভিস্যুয়াল অংশ হ্যাক হয়ে যাবে। গ্রাহকের মোবাইলের অ্যাকসেস চলে যাবে প্রতারকদের হাতে।
কারণ, গ্রাহকরা যখনই অনলাইনে কোনও পেমেন্ট করবেন, তখন তার পাসওয়ার্ড বা পিন জেনে নিতে পারবে প্রতারকরা। ফলে, সহজেই তারা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে নিতে পারবে। টাকা লেনদেনের সময় গ্রাহকের মোবাইলে ওটিপি যাবে। কিন্তু, ভিস্যুয়াল হ্যাক হওয়ার জন্য প্রতারকরাই সেই ওটিপি পড়ে নেবে। যে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লোপাট হবে, তিনি বুঝতেই পারবেন না, কী করে তাঁর টাকা চলে যাচ্ছে! ভিস্যুয়াল অংশ হ্যাক হওয়ার জন্য ক্যামেরার অ্যাকসেসও পেয়ে যাবে প্রতারকরা। ফলে, ছবি ও ভিডিয়ো তারা হাতিয়ে নিতে পারবে।
পুলিশের দাবি, একটু অসতর্ক হলেই যে কেউ এই প্রতারণার শিকার হতে পারেন। তবে, বাঁচার উপায় হল, এই ধরনের প্রতিটি ফাইলে ডট এপিকে লেখা থাকে। তাই এপিকে ফাইল দেখলেই এড়িয়ে যেতে হবে। তা না-হলে যেকোনও মুহূর্তে সর্বস্বান্ত হতে হবে।