Bartaman Logo
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মিলল ফোনের সূত্র, জেল ভেঙে আফতাব আনসারিকে নিয়ে যাওয়ার জঙ্গি-ছক ফাঁস

মার্কিন তথ্যকেন্দ্র হামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আফতাব আনসারি ওরফে ফারহান মালিককে জেল থেকে ‘ভাগানোর’ ছক কষছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা।

মিলল ফোনের সূত্র, জেল ভেঙে আফতাব আনসারিকে নিয়ে যাওয়ার জঙ্গি-ছক ফাঁস
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মার্কিন তথ্যকেন্দ্র হামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আফতাব আনসারি ওরফে ফারহান মালিককে জেল থেকে ‘ভাগানোর’ ছক কষছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। জেলে  অতর্কিতে হামলা চালিয়ে আফতাবকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়াই ছিল টার্গেট। তার মোবাইল ঘেঁটে এই পরিকল্পনার বিষয়ে কিছু তথ্য গোয়েন্দারা পেয়েছেন বলে সূত্রের খবর। খুব শীঘ্রই  তাকে হেফাজতে পেতে আদালতে আবেদন জানাবে লালবাজার।  এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

Advertisement

২৩ আগাস্ট প্রেসিডেন্সি ও দমদম জেলের কারা কর্তারা আফতাবের সেলে সারপ্রাইড ভিজিট চালিয়ে উদ্ধার করেন একটি আইফোন, দুটি স্মার্ট ফোন, সিমকার্ড, রাউটার, পেনড্রাইভ সহ বিভিন্ন সামগ্রী। জঙ্গি আফতাবের সেল থেকে মিলেছিল নগদ ৩১ হাজার টাকাও। তড়িঘড়ি তদন্তভার নেয় এসটিএফ। তবে এর আগেও তিনবার আফতাবের সেল থেকে মিলেছিল মোবাইল ফোন। প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি আফতাব বরাবরই এসটিএফ সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার র‌্যাডারে রয়েছে। জেলে তার গতিবিধি ও কার্যকলাপ নিয়ে প্রতিদিনই কাটাছেঁড়া চলে। তপসিয়ার মফিদুল ইসলাম লেনের বাসিন্দা আসিফ রেজার মৃত্যু হয় গুজরাত পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে। তার মৃত্যুর বদলা নিতে তৈরি হওয়া ‘আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্স’ই ২০০২’এ কলকাতার মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে হামলা চালায় আফতাব আনসারির পরিকল্পনায়। ওই হামলার সঙ্গে যুক্ত আফতাবের বেশ কয়েকজন শাগরেদ পাকিস্তানে গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন, পাকিস্তানে থাকা সেরকমই কয়েকজন আইএসআইয়ের মদতে জেল ভেঙে আফতাবকে ছাড়াতে সক্রিয় হয়েছিল। তৃণমূল জমানায় আফতাবের সেল থেকে তিনবার মোবাইল উদ্ধার হলেও মমতার সরকার বিষয়টি ভালো করে তলিয়েই দেখেনি। পালাবদলের পর সংশোধনাগারের ডিজি রমেশবাবু  সিদ্ধান্ত নেন, নিরপেক্ষ টিম গড়ে বিভিন্ন জেলের সেলে তল্লাশি চালাবেন।  এই তল্লাশির ফলস্বরূপ আফতাবের সেল থেকে উদ্ধার হয় মোবাইলসহ বিভিন্ন সামগ্রী। 
উদ্ধার হওয়া মোবাইলের সূত্রে গোয়েন্দারা জেনেছেন, পাকিস্তানে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিল আফতাব। সেই সঙ্গে বেশ কিছু চ্যাট ডিকোড করে তাঁরা জেনেছেন, আফতাব সংগঠনের পুরনো সদস্যদের খুঁজছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই সূত্র ধরে জানা যাচ্ছে, জয়েশ সহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ঠিক করে কীভাবে আফতাবকে বাইরে বের করে আনবে। তাকে সামনে রেখে নতুন মডিউল করবে। এরজন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছিল তারা। তদন্তকারীদের অনুমান, জেলবন্দি অন্য জঙ্গিদের সাহায্য এক্ষেত্রে নেওয়া হত। সেক্ষেত্রে কারারক্ষীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে জেলে তাণ্ডব চালিয়ে আফতাবকে বের করার পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য এসেছে গোয়েন্দাদের কাছে। এরপরই জেলে আফতাবের নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। কাদের দিয়ে ‘জেল ভাঙার’ এই পরিকল্পনা এবং কারা কারা তাতে অংশ নিত, চ্যাট সহ বিভিন্ন সূত্র থেকে মেলা তথ্য থেকে তা জানার চেষ্টা চলছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ