নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: ৩০২/এইচ/১, এ পি সি রোড। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্ব। সেখানেই সুমিতা ঘোষের বোনের বাড়ি। অসমের জোরহাটে তাঁদের বাপের বাড়ি। তবে গত তিন মাসের বেশিরভাগ সময়টা তিনি শিয়ালদহে বোনের কাছেই ছিলেন। দিন ১৫ আগে তিনি সেখান থেকে মধ্যমগ্রামে ফাল্গুনীদের বাড়িতে যান। সেখান থেকে তাঁদের পুরীতে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। আরতি, ফাল্গুনী ও তার পিসিশাশুড়ি—তিনজন মিলে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তাহলে শেষ ১৫ দিনে কী এমন হল যে নৃশংসভাবে খুন হতে হল সুমিতাদেবীকে? এমনই প্রশ্ন তুলছেন মৃতার জামাইবাবু মানিক ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও পিসিশাশুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ফাল্গুনীর। হঠাৎ কী এমন হয়ে গেল, বুঝতে পারছি না।’ টাকাপয়সা নিয়ে কোনও সমস্যা হতে পারে বলে অনুমান মানিকবাবুর।
Advertisement
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনীদের বাড়ি যান সুমিতা। তিনি নিজে থেকেই সেখানে যান, নাকি ফাল্গুনী তাঁকে ডেকে নিয়ে যায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃতার জামাইবাবু বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি ফোনে এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন সুমিতা। সেই সময় তাঁকে কান্নাকাটি করতে শোনা যায়।’ পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামে যাওয়ার পর দু’দিন আগেও তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়। সেই অশান্তিতে আরতিরও যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। সোমবার বিকেলে অশান্তি চরমে পৌঁছয়। তারপরই সুমিতাকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ফাল্গুনীর শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি, গয়না সহ অন্যান্য পারিবারিক বিষয় নিয়েই গোলমালের সূত্রপাত। সেই বিবাদ চলাকালীন সুমিতাকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমন ধারণার কারণ, সোমবার দুপুরে নীল রঙের একটি ট্রলিব্যাগ নিয়ে আসতে দেখা যায় ফাল্গুনীকে। স্থানীয় বাসিন্দা সুমনকান্তি ঘোষ বলেন, ‘সোমবার দুপুরে পড়শি এক গৃহবধূ ফাল্গুনীকে হাতে করে নীল একটি ট্রলিব্যাগ আনতে দেখেছে। তবে সেটি নতুন না পুরনো, বোঝা যায়নি। পুরনো হলে হয়তো সেটি সারাই করতে নিয়ে গিয়েছিলেন।’ এই বক্তব্য থেকেই পুলিসের অনুমান, প্রৌঢ়াকে খুন করার জন্যই মধ্যমগ্রামে ডেকে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সুমিতার ফোনের কল ডিটেইলস ও কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছে উত্তর বন্দর থানার পুলিস। এদিকে, মঙ্গলবার রাতেই মধ্যমগ্রামের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় অভিযুক্ত ফাল্গুনীকে। সেই বাড়ি থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেন্সিক আধিকারিকরা। লালবাজার সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃতার মাথা, ঘাড় ও দুই হাতে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।



