


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অলক্ষ্যে ওষুধের দামবৃদ্ধির পটভূমি তৈরি হচ্ছে। কারণ সেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালী রুদ্ধ ও বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় বহু পণ্যবাহী জাহাজ আটকে থাকছে বন্দরে বন্দরে। মার্চ মাস থেকেই চলছে এই প্রবণতা। বহু পণ্য আমদানি থমকে গিয়েছে। আর তার মধ্যে অন্যতম হল ওষুধের কাঁচামাল। সেই কারণেই কমে যাচ্ছে ওষুধ উৎপাদন। ওষুধ উৎপাদন সংস্থাগুলির বক্তব্য, প্যারাসিটামল উৎপাদনের কাঁচামালের দাম ছিল প্রতি কেজি ২০০ টাকা। সেটি বেড়ে ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। ডিক্লোফেনাক জাতীয় ওষুধের দাম কেজি প্রতি ছিল ৬০০ টাকা। সেটি
হয়েছে ৯৫০ টাকা। নন স্টেরয়েড বিভিন্ন ওষুধ অথবা অ্যান্টাসিড, পেইনকিলারের শুধু কাঁচামাল নয়, স্ট্রিপ তৈরি করা হয় যে উপকরণ দিয়ে, সেগুলিরও দাম বেড়েছে বলে দাবি করছে ওষুধ নির্মাতাদের। ব্র্যান্ডেড ওষুধের দাম ইতিমধ্যেই ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, অ্যান্টিবায়োটিকের কাঁচামালের দাম বেড়েছে কেজিতে দেড় হাজার টাকা। এসএমএসই সংগঠনগুলির বক্তব্য, বৃহৎ ওষুধ কোম্পানিগুলি বিপুল মুনাফা করে থাকে। সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে যে, একটি বহুজাতিক কিংবা ব্র্যান্ডেড যে ওষুধ তারা কিনে থাকে, তার উৎপাদন ব্যয় কত এবং ক্রেতারা কত টাকায় দোকান থেকে সেই ওষুধ কিনে থাকেন। এই ফারাক এতই বেশি যে, সাময়িক ক্ষতি অথবা কাঁচামাল জোগানের সমস্যা যে কোনও সময় তারা সামলে নিতে পারে। কিন্তু নন ব্র্যান্ডেড ছোটো সংস্থার পক্ষে তা ঠেকানো অসম্ভব। ফার্মাসিউটিক্যাল এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল সরকারের কাছে আবেদন করেছে ওষুধের দামবৃদ্ধির প্রস্তাব যেন অনুমোদিত হয়। যে প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থায় এই দামবৃদ্ধি হয়, তাদের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সুতরাং সেই আবেদন মঞ্জুর হলে ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।