Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

পাগলাবাবু থেকে মায়ের ঘাট

বাগবাজার খাল ও রুস্তমজির ঘাটের ঠিক দক্ষিণে, ট্রামডিপো থেকে খানিক এগলেই চক্ররেলের লাইন। লাইন টপকালেই হুগলি নদীর পূর্ব তীর। সেই রাস্তা এবং সেখানকার ঘাটটি একসময় পরিচিত ছিল বাগবাজারের বনেদি বাসিন্দার নামে—দুর্গাচরণ মুখোপাধ্যায়।

পাগলাবাবু থেকে মায়ের ঘাট
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
বাগবাজার খাল ও রুস্তমজির ঘাটের ঠিক দক্ষিণে, ট্রামডিপো থেকে খানিক এগলেই চক্ররেলের লাইন। লাইন টপকালেই হুগলি নদীর পূর্ব তীর। সেই রাস্তা এবং সেখানকার ঘাটটি একসময় পরিচিত ছিল বাগবাজারের বনেদি বাসিন্দার নামে—দুর্গাচরণ মুখোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন রাজশাহীর কালেক্টর রো সাহেব, কলকাতা টাঁকশালের অধ্যক্ষ হ্যারিস সাহেব এবং আফিমের এজেন্ট অ্যাডিসন সাহেবের দেওয়ান। যদিও তাঁর নামের বদলে লোকমুখে ‘পাগলাবাবুর ঘাট’ নামেই প্রসিদ্ধ ছিল এলাকাটি। এখন অবশ্য সেই পরিচয় অতীত। সৌজন্যে শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী।
Advertisement
উত্তর কলকাতার বাগবাজার মঠ এমন বহু ঘটনার সাক্ষী। জয়রামবাটির পর এখানেই জীবনের সবথেকে বেশি সময় কাটিয়েছে শ্রীশ্রীমা। ১৯০৯ থেকে ১৯২০, দীর্ঘ ১১ বছর। সেই সময় তিনি নিয়মিত স্নান ও জপ করতে যেতেন এই ‘পাগলাবাবুর ঘাটে’। শ্রীমা সারদাদেবীর ১৫০ তম জন্মবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে ঘাটটি সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করা হয়। এবং তা উৎসর্গ করা হয় শ্রীমার নামে। ২০০৫ সালে স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ণ জন্মতিথি উপলক্ষে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের তরফে এই ঘাটের উদ্বোধন করেন স্বামী আত্মস্থানন্দ মহারাজ। এখন আট থেকে আশি সকলের কাছে এক নামে পরিচিত ঘাটটি— ‘মায়ের ঘাট’।
প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষজন আসেন মায়ের পদধূলিধন্য এই গঙ্গার ঘাটটি চাক্ষুষ করতে। সেখানে রয়েছে মায়ের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি। বড় কাঁচের বাক্সে তা সংরক্ষিত। বহু মানুষ সেখানে এসে স্নান করে মায়ের মূর্তির সামনে ফুল-মালা, ধূপবাতি জ্বেলে প্রার্থনা করেন। অনেককে জপধ্যাপও করতে দেখা যায়। গঙ্গার ঘাট লাগোয়া একটি বড় ঘরে মায়ের ফটোতে পুজো হয়। সঙ্গে প্রতিদিন সন্ধ্যা আরতি। শুধু মায়ের ঘাট, মায়ের বাড়ি কিংবা মঠ নয়, বাগবাজারে রয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণ-সারদাদেবীর স্মৃতিধন্য একাধিক বাসভবন। গিরিশ ঘোষের বাড়ি, ভগিনী নিবেদিতার বাসভবন, শ্যামপুকুর বাটি, বলরাম মন্দির... তালিকা শেষ হতে চায় না।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ