বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: শেষ এক বছরে পিজি হাসপাতাল থেকে মেলেনি একজনও ‘অঙ্গদাতা’। সেকারণে পিজি থেকে কোনো অঙ্গ সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি মুমুর্ষু রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই এক বছরে ধাক্কা খেয়েছে অঙ্গদান আন্দোলন।
বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: শেষ এক বছরে পিজি হাসপাতাল থেকে মেলেনি একজনও ‘অঙ্গদাতা’। সেকারণে পিজি থেকে কোনো অঙ্গ সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি মুমুর্ষু রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই এক বছরে ধাক্কা খেয়েছে অঙ্গদান আন্দোলন।
পিজির চিকিৎসক মহল সূত্রের খবর, গত এক বছরে এখানে ‘মস্তিষ্কের মৃত্যু’ বা ‘ব্রেন ডেথ’-এর অন্তত তিনটি ঘটনা ঘটেছিল। প্রিয়জনের অঙ্গদানে রাজি ছিলেন বাড়ির লোকজন। এমনকি, অঙ্গগ্রহীতা হাসপাতালের চিকিৎসকরা অঙ্গ নিয়ে যেতে হাজিরও হয়েছিলেন। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে রোগীদের কার্ডিয়াক ডেথ হওয়ায় সেই অঙ্গ আর কাজে লাগানো যায়নি।
পিজি সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের জুন মাসের শেষার্ধ্বে শেষবার এখানকার রোগীদের দানের অঙ্গ কাজে লাগানো গিয়েছিল। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অবশ্য অন্য হাসপাতালে ব্রেন ডেথ হওয়া রোগীর অঙ্গ পিজিতে ভরতি রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এভাবে নতুন জীবন পেয়েছেন বহু রোগী।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের মস্তিষ্কের মৃত্যুর পর অঙ্গদান সংক্রান্ত কাজকর্মে পূর্বাঞ্চলের প্রধান কেন্দ্র পিজি। এখানে রয়েছে রিজিওনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন (রোটো)-এর অফিস। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং সিকিম— এই পাঁচ রাজ্যে ব্রেন ডেথ-এর পর অঙ্গদান সংক্রান্ত কাজকর্মের আঞ্চলিক অফিস এখানেই।
এখানে অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত কাজকর্মে যুক্ত চিকিৎসকদের সূত্রে খবর, লিভার, হার্ট, কিডনির অন্তিম পর্যায়ের অসুখের রোগীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। বহু ক্ষেত্রে অঙ্গ প্রতিস্থাপন ছাড়া তাঁদের বাঁচার আশা নেই। একেই সর্বত্র অঙ্গের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে আকাশপাতাল ফারাক। এই অবস্থায় পিজির মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে শেষ এক বছরে ‘দাতা’ না থাকায় ফারাক আরও বেড়েছে। এ নিয়ে পিজি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।