নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ১৫ হাজার টাকা থেকে বেতনের ঊর্ধসীমা বৃদ্ধি করে ২৫ হাজার টাকা করে আরও অতিরিক্ত ৫১ লক্ষ কর্মীকে ইপিএফও-র আওতায় এনে সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই একমাত্র উদ্দেশ্য। এই নীতি ঘোষণা করে বুধবারই সরকার জানিয়েছিল, এজন্য কোষাগারে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১১০০ কোটি টাকার আর্থিক বোঝা চাপবে।
কিন্তু পাশাপাশি সরকারের নিজস্ব আর্থিক সুবিধাও কি হবে না? অবশ্যই হবে।
কারণ, নতুন পিএফ নিয়ম চালু হওয়ায় যদি সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী আরও অতিরিক্ত ৫১ লক্ষ কর্মী সংযুক্ত হয়ে যায়, তাহলে এই তহবিলে বছরে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা বেশি আসবে। ইপিএফও বিনিয়োগ নীতি হল, এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড ফান্ডে যত টাকা জমা হয়, তার প্রায় সিংহভাগ অংশই ৪৫ থেকে ৫২ শতাংশ সরকারি বন্ডে লগ্নি করা হয়। অর্থাৎ জি সেক বন্ড ক্রয় করে সরকার থেকে ঋণপত্র নেয় ইপিএফও। পাশাপাশি সরকার যে উৎসগুলি থেকে নিয়ম করে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ গ্রহণ করে ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচারের ব্যয় বহন করে, তার অন্যতম হল পিএফ তহবিল। আবার পিএফ কর্তৃপক্ষ অন্তত ৫ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থ এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে লগ্নি করে। সেই অঙ্ক অন্তত বছরে ২ হাজার কোটি টাকা। শেয়ার বাজার দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমুখী। মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার অত্যন্ত খারাপ। বিদেশি আর্থিক সংস্থাগুলি শেয়ার বাজারে লগ্নি করছে না। উলটে প্রত্যাহার করে নিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় অন্তত দেশীয় লগ্নি শেয়ার বাজারে বেশি হলে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া যাবে। এই অতিরিক্ত পিএফ কন্ট্রিবিউশন তাই সরাসরি সরকারের কাছে প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে আবার একটি শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু নতুন নিয়মে পিএফ বাবদ অধিক অর্থ কেটে কম বেতন হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেই কারণে মূল্যবৃদ্ধির এই আবহে আরও সমস্যায় পড়বেন সাধারণ বেসরকারি কর্মীরা। ঠিক উৎসবের মরশুমেই যদি হাতে টাকা কমে যায় সেক্ষেত্রে কেনাকাটায় প্রভাব পড়বে। যদিও পিএফ ফান্ডে টাকা যাওয়ার অর্থ ভবিষ্যতের সঞ্চয় বাড়বে, তবুও ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত যাদের আয়, তাঁদের কাছে ওই অতিরিক্ত যে টাকা নতুন করে পিএফ বাবদ কাটা হবে, সেটাও অনেক।